রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

কয়রায় পানির মধ্যে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাত নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীর ফেসবুক ষ্টাটাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০
  • ২১৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

কয়রায় পানির মধ্যে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে নানাজনের নানান কথা বলেছেন। অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আবার অনেকেই নানান প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে কয়রার সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম রেজা তার ফেসবুক ওয়ালে যা লিখেছেন তা পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবাহু তুলে ধরা হল।

গত ২০ শে মে ২০২০ সুপার সাইক্লোন আম্পানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার একটি কয়রা উপজেলা। এই সাইক্লোনে মানুষের ঘর, গাছ সহ অনেক কিছু ভেঙ্গে যায় এবং সবথেকে বড় বিষয় উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়, ২২শে মে থেকে বাঁধ বাধার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু ভাঙনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় জোয়ার আসলে সেটি আবারও ভেঙে যাচ্ছে। এজন্য ঈদের দিন সবাইকে বাঁধে কাজ করার জন্য আসতে বলা হয় এবং সেখানেই ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করা হয়।ঈদের দিন প্রায় ৫ হাজার লোক সেখানে উপস্থিত হয় এবং নামাজ আদায়ের পরে উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে সকালে সেমাই ও কাজের পরে খিচুড়ি মাংস দেয়া হয়।কিন্তু কিছু বিষয় নিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
প্রথমত, নামাজ যিনি পড়াইছেন উনি জামায়াতের একজন নেতা ও সাবেক দুই বারের উপজেলা চেয়ারম্যান, শুধুমাত্র এটাই নয় তার ভাই কয়রা উপজেলা বিএনপির সভাপতি। কিন্তু ইমামের পিছেনে তাকালেই দেখতে পাবেন চশমা পরা একজন ব্যক্তি এবং যিনি তাকবীর দিয়েছেন তিনি কয়রা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সাবেক দুইবারের কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমান কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এছাড়া প্রথম সারিতে যারা দাড়িয়েছে তাদের অধিকাংশ উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা।কয়রা-পাইকগাছা সংসদীয় আসনের পরিসংখ্যান দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন এখানে জামায়াতের আধিপত্য ছিলো, এজন্য চেষ্টা করেছে সকলে মিলে কাজ করার।সম্পূর্ণ কাজটা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হয়েছে।যদিও তিনি জামায়াতের নেতা কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠ ও সকলের নিকট পরিচিত হওয়ায় তাকে ইমাম করা হয়, যেহেতু এইখানে সবদলের লোক ছিলো এজন্য অন্য পক্ষকে খুশি করে সবাই মিলে কাজটা করার প্রচেষ্টা মাত্র।

দ্বিতীয়ত, নামাজ কেনো পানিতে পড়া হলো। ওইখানে যে জায়গা ছিলো তার বেশিরভাগ জায়গায় পানি ছিলো, আর পিছনে যে উঁচু জায়গা সেটা বেড়িবাঁধ, ঔখানে পাশাপাশি ২-৩ জনের বেশি দাঁড়ানো যায়না, আর ওই বাঁধ এতটাই দুর্বল যে বেশি মানুষ দাড়ালে যে বাঁধটুকু বাকি আছে সেটুকুও ভেঙ্গে যাবে,কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ যে রাস্তাটা শুকনা ছিলো সেখানে নামাজ পড়ছে কিন্তু একটা ছবি ভাইরাল হওয়ায় অন্য ছবিগুলো আপনারা দেখেননি এবং প্রায় ৫ হাজার লোক হওয়ায় রাস্তায় সংকুলান হওয়া সম্ভব ছিলো না।
তৃতীয়ত, তারা কেন মসজিদে বা অন্য জায়গায় নামাজ পড়েনি এবং সামাজিক দুরত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেছে অনেকেই। প্লাবিত এলাকার একটা মসজিদে নামায পড়ার মতো অবস্থা নেই।অন্য জায়গা বা মাঠের কথা যারা বলেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি নামায পড়ার জন্য যে জায়গা আছে সেখেনে নামাজ পড়ে বাঁধে যাইতে কমপক্ষে ২ ঘণ্টা লাগবে আর ততক্ষণে জোয়ার শুরু হবে এবং পানি বৃদ্ধি পাবে তখন বাঁধ দেওয়া অসম্ভব। এমনকি জোয়ারে বিগত কয়েকদিনে দেয়া বাঁধও কিছুটা ভেঙ্গে গেছে।সুতরাং অন্য কোথাও নামায পড়ে বাঁধের কাজ শুরু করা সম্ভব ছিলোনা।
সামাজিক দুরত্ব নিয়ে যারা বলছেন, ভাই থাকার জায়গা আর পেটে ভাত না থাকলে করোনার কথা আপনারও মনে থাকবে না।ফসলের ক্ষেত ভেসে গেছে এবং সবথেকে বড় অর্থনৈতিক সাপোর্ট মাছের ঘেরে পানি ঢুকে সাদা মাছ মরে দুর্গন্ধময় হয়ে গেছে পানি।এই অবস্থায় আপনি যখন সামান্য খাবার পানির জন্য পথ চেয়ে থাকবেন কখন সেনাবাহিনী পানি নিয়ে আসবে বা ৫ কিলোমিটার নৌকা চালিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হবে তখন করোনার কথা মনে থাকবে না। আর কয়রায় এখনো কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি এবং এখন চারিদিকে পানি থাকায় বাইরের মানুষ খুবই কম আসতে পারছে।

অন্য একটি বিষয় হলো যে ব্যক্তি ছবি তুলেছে তার শিবির সংশ্লিষ্টতা আছে।আজাদ নামে যে ব্যক্তি ছবি তুলেছে তার সম্পর্কে আমি জানিনা এবং ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না। এজন্য তার সম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না।কিন্তু ছবি অনেকেই তুলেছে, তার ছবি ক্যামেরায় তোলা ছিলো এজন্য বেশিরভাগ মানুষ তার ছবি নিছে।অন্যদের মোবাইলে তোলা ছিলো।
এরপরেও কারো কোনো বিষয়ে জানার থাকলে কমেন্টে বলতে পারেন অথবা উপকূলীয় অঞ্চলে কোনো বন্ধু বা আত্মীয় থাকলে তাদের থেকে জানতে পারেন।
শুধু এটুকুই বলবো ২৫ শে মে ২০০৯ এ আইলায় যে ক্ষতি হয়েছিলো কয়রার সেটা যখন কাটিয়ে উঠেছে তখন ২০ শে মে ২০২০ আম্পানে সেই স্বপ্ন লোনাজলে ভাসিয়ে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu