রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
পাইকগাছায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫শ গ্রাম গাঁজাসহ আটক-১ খুলনা জেলা প্রশাসনের এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ নগরীর নতুন বাজার ব্যাংকগলিতে র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র মাদকসহ আটক-২ ডুমুরিয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ আটক-১ ফুলতলায় ডিবি পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ আটক-১ রূপসা উপজেলার এসডিজি ফোরামের ভার্চুয়াল ইন্টারেক্টিভ সভা অনুষ্ঠিত ডুমুরিয়ায় আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ডুমুরিয়ায় যুব নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ডুমুরিয়া উপজেলায় জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন  ক্রীড়া ক্ষেত্রে মানুষ ব্যাস্ত থাকলে সন্ত্রাস বা মাদক তাদের স্পর্শ করতে পারেনা- রূপসায় এমপি সালাম মূর্শেদী

রূপসার এক দরিদ্র কিশোরী আখির সফলতার গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৩২৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

শুধু পুথিগত শিক্ষা নয় হাতের কাজও মানুষকে নিয়ে যেতে পারে সাফল্যের ‍উচ্চ শিখরে। দারিদ্রতার শিকার হয়ে যে কিশোরী প্রাইমারীর চৌকাঠ পেরিয়ে হাই স্কুল পর্যন্ত পৌছুতে পারেনি সেকিনা হাতের কাজ করে সমাজের জন্য অসামান্য অবদান রাখায় জাতিসংঘ কর্তৃক রিয়েল হিরো খেতাপ পেয়ে বাংলাদেশ তথা খুলনার জন্য বয়ে এনেছে বিরল সম্মান। আখির এই অর্জন বিশ্বদরবারে বাংলদেশকে আর একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলো।

রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের মাসুদ মোল্লার ছোট কন্যা আখি(১৭)। তার মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম। দরিদ্র পিতা-মাতার সামর্থ না থাকায় শিক্ষা বঞ্চিত হয় আখি। শিক্ষাঙ্গন থেকে ঝরেপড়া আখি হয়ে যায় মাছ কোম্পানীর একজন শ্রমিক। আমাদের দেশে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় ২০১৮ সালে নজরে আসে দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রতিনিধি আবেদা সুলতানার। তিনি আখিকে শিশু শ্রমের কবল থেকে মুক্ত করে পূনরায় স্কুলে ভর্তির চেষ্টা করেন। বয়সের তারতম্যে স্কুলে ভর্তি করতে না পেরে অবশেষে ওয়ার্ল্ড ভিশনের জীবনের জন্য প্রকল্পের আওতায় তাকে কারিগরী প্রশিক্ষণ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাকে স্বাবলম্বী করার জন্য একটি সেলাই মেশিনসহ কিছু উপকরন দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় আখির নিজের পায়ে দাড়ানোর সংগ্রাম।

বাস্তব জীবনে বীরঙ্গনা আখির সংবাদ শুনে খুলনা-৪ আসনের সাংসদ আব্দুস সালাম মূর্শেদী ও তার সহধর্মিনী সারমিন সালাম আখির বাড়িতে প্রতিনিধি পাঠিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাশাপাশি তাকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। একইভাবে রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন আক্তার তার এই সাফল্যে সন্তোস প্রকাশ করেন এবং আগামী ২৬ আগষ্ট আখিকে সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করেন।

উল্লেখ্য বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে তাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মানবিক কাজে অনুপ্রেরণা জোগাতে জাতিসংঘ বাংলাদেশের চার জনকে ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তথ্য প্রকাশ করে।  স্বীকৃতিপ্রাপ্তরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান সৈকত, ব্র্যাকের স্থপতি রিজভী হাসান, অনুবাদক সিফাত নুর ও আঁখি। এদের প্রত্যেকেই মানবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে করে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা যখন ক্যাম্পাস ছেড়ে নিজ নিজ বাড়ি চলে যায় তখন সৈকত ক্যাম্পাসে থেকে প্রান্তিক মানুষকে সহায়তা দেওয়া শুরু করেন। এপ্রিল মাসের শুরু থেকে টানা ১১৬ দিন কার্যক্রম চালানোর পর করোনার প্রকোপ কমে আসলে তিনি সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিত মানুষকে সহায়তা দিতে সেখানে চলে যান। বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা গ্রহণ করে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন তিনি।

বাস্তব জীবনের নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া আরেক বাংলাদেশি আঁখি। একসময়ে বাংলাদেশের আরও বহু শিশুর মতো শিশুশ্রমে নিয়োজিত আঁখিকে পুনর্বাসনে সহায়তা দেয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন। বয়সের কারণে স্কুলে ফেরানো না গেলেও তাকে দর্জি কাজের প্রশিক্ষণ দেয় ওয়ার্ল্ড ভিশন। পরে তাকে দেওয়া হয় একটি সেলাই মেশিন আর কিছু কাপড়। সেখান থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতে থাকেন নিজেই গার্মেন্টস কারখানা গড়ে তোলার। বর্তমানে আঁখি তার মা এবং বড় বোনের সহায়তায় নিজের ব্যবসা পরিচালনা করেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে দেখা দেয় মাস্ক সংকট। আর তখনই মাস্ক তৈরি শুরু করেন। কম দামে আশপাশের দরিদ্র মানুষদের মধ্যে এসব মাস্ক বিক্রি শুরু করেন তিনি।

জাতিসংঘের স্বীকৃতি পাওয়া আরেক বাংলাদেশি রিজভী হাসানের বেড়ে ওঠা ঢাকায়। স্থাপত্যবিদ্যার পাঠ চুকিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরের জন্য সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের কাজ পান। তখনই তিনি দেখতে পান বিভিন্ন দাতা সংস্থা মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য স্বল্প খরচে আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেখানে তিনি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতায় আক্রান্ত নারীদের সেবা প্রদানের জন্য স্বল্প খরচে নিরাপদ স্থান গড়ে তোলা শুরু করেন। এসব স্থানে রোহিঙ্গা শিবিরের নারীদের কাউন্সেলিংসহ নানা দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এসব স্থাপনার মাধ্যমে বহু নারীকে নিরাপদে সেবা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যেতে পারছে ব্র্যাক ও ইউনিসেফ।

অনুবাদের কাজ করে বাস্তব জীবনের নায়ক হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ সিফাত নুর। জাতিসংঘ মনে করে, যেকোনও সংকটের সময়ে খাবার, পানি ও আশ্রয়ের মতোই মানুষের দরকার পড়ে তথ্য ও যোগাযোগের। এসব তথ্য ও যোগাযোগ হতে হয় তাদের নিজস্ব ভাষায়। আর এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একজন অনুবাদকের কাজ। জাতিসংঘ বলছে, সিফাত মানবিকতার নায়ক। কারণ, তিনি জটিল, জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাংলায় অনুবাদ করেছেন। ২০২০ সালের মার্চে ট্রান্সলেটর উইদাউট বর্ডারস নামে একটি সংস্থায় কাজ শুরুর পর এক লাখ ১৫ হাজারের বেশি শব্দ বাংলায় অনুবাদ করেছেন তিনি। আইএফআরসি ও ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার হয়ে এসব শব্দ অনুবাদের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী তথ্য পৌঁছে দিতে পেরেছেন তিনি। সম্প্রতি কোভিড-১৯ নিয়ে তারা অনুবাদ কাজের মাধ্যমে বহু মানুষ নিজেকে এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখতে সক্ষম হয়েছে। তানভীর হাসান সৈকত  বলেন, ‘আমি ভালোবেসে মানুষের জন্য কাজ করেছি। এ কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এটা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সামনে মানুষের জন্য মানবিক কাজ অব্যাহত থাকবে।’

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu