বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
খুলনা জেলা এসডিজি ফোরামের ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত ফকিরহাটে সড়ক দূর্ঘটনায় ট্রাক চালক নিহত, আহত-২ বর্তমান সরকার সর্বদা গরীব অসহায় এবং দুঃস্থদের সাহায্য করে আসছেন-রূপসায় জুম কনফারেন্সে এমপি সালাম মূর্শেদী “প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা” হতে পারে সবার জীবনে অনুকরনীয় ডুমুরিয়া কলেজ মাঠে মানুষ বিক্রির হাট !           রূপসায় সুন্দরবনের জলদস্যু রাজু গ্রেফতার খুলনা জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক-১ পাবনার আটঘরিয়ায় গৃহিনীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ! হত্যা নাকি আত্মহত্যা ? দিঘলিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষ, আটক-৭ ফকিরহাটে কলেজ ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনায় আটক-১

সৌদি প্রবাসির আত্মহত্যার প্ররোচণা মামলায় স্ত্রীসহ পরকীয়া জুটি গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৫৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

ডুমুরিয়া(খুলনা) প্রতিনিধিঃ সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহমান (৪৬) আত্মহত্যার ৭ মাস পর অবশেষে প্ররোচণা মামলায় গ্রেফতার হয়েছে পরকীয়া জুটি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শাহপুর গ্রাম থেকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। আব্দুর রহমানের পরিবারের শোক কাটিয়ে না উঠতেই পরকীয়া জুটি বিএম কিবরিয়া ও মুর্শীদা সুলতানা শাহপুর গ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে স্বামী স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছিল। প্রবাসী আব্দুর রহমান গাজীর আত্মহত্যা প্ররোচণাকারিদের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় অভিযোগ দিলেও আইনী জটিলতা দেখিয়ে বাদী পক্ষকে পুলিশ কয়েক দফা ফিরিয়ে দেয়। অন্যদিকে মহামারী করোনা সমস্যার কারণেও আদালতে মামলা না হওয়ার কারণে ঘটনাটি ধামাচাপা হয়ে পড়ে। অবশেষে আব্দুর রহমানের ছোট ছেলে আকাশ গাজী বাদী হয়ে ২৪ মার্চ আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা গ্রহণের জন্য ডুমুরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে ডুমুরিয়া থানায় মামলা রেকর্ড হয়। যার নং ৩/২০।

পারিবারিক ও এলাকাবাসিসূত্রে জানা যায়; পরকীয়ার বলি আব্দুর রহমান গাজীর বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামে। পেশায় ছিল একজন রাজমিস্ত্রি। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করতেন। ১০ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন তিনি। ২ পুত্র সন্তান জন্মের পর আব্দুর রহমান গাজী স্ত্রীকে তালাক দেন। পরবর্তীতে আব্দুর রহমান খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গাওঘরা গ্রামের হেকমত আলী বিশ্বাসের একাধিক স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে মুর্শীদা সুলতানা (৩০) কে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে মিম নামে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। সন্তান জন্মের পর কিছুদিন তাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই ছিল।

আব্দুর রহমান গাজী লেখাপড়া না জানলেও দ্বিতীয় স্ত্রী মুর্শীদা সুলতানাকে লেখাপড়া করিয়ে এমএ পাশ করান। বিয়ের পর মুর্শীদা সাতক্ষীরায় ব্র্যাকে (এনজিও) চাকুরি করতেন। আব্দুর রহমান গাজীও বাসা নিয়ে সেখানে অবস্থান করতেন। কিন্তু সেখানে ব্র্যাকের এক কর্মকর্তার নজরে পড়েন প্রেম কাঙালিনী মুর্শীদা। নিরুপায় হয়ে শেষাবধি চাকুরি ছেড়ে আব্দুর রহমান তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। বাড়ি এসে তিনি আবারও পুরোনো পেশা রাজমিস্ত্রি কাজ আঁকড়ে ধরেন।

আব্দুর রহমান গাজী বসবাসের ভিটেটুকু ছাড়া সকল জমিজমা সম্পদ বিক্রি করে সর্বশান্ত হন। ধারদেনা করে বড় ছেলে সাগরকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেন। ছোট ছেলে আকাশ তার মায়ের সাথে মামার বাড়ি অবস্থান করে পড়ালেখা করতো। শেষ সম্বল বাড়িটাও অবশেষে স্ত্রীর চাপে ৭ শতক জমিসহ মুর্শীদার নামে লিখে দেয়। হাতের পাঁচ হারিয়ে রহমান গাজী হয়ে পড়ে অসহায়। স্ত্রী মুর্শীদা বিদেশ যাবার জন্য আব্দুর রহমানকে আবারও চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। আব্দুর রহমান স্ত্রীর কথামত বিভিন্ন এনজিও সমিতি ও ব্যক্তির নিকট থেকে ঋণ নিয়ে ঘটনার ৩ মাস আগে সৌদি আরবে চলে যান। ১৫ লক্ষাধিক টাকার ঋণী হয়ে পড়েন আব্দুর রহমান গাজী।
নিঃসঙ্গ জীবনকে আয়েশী করতে মুর্শীদা আন্দুলিয়া গ্রামের আঃ রহমান বিশ্বাস ওরফে কুদা’র ছেলে শাহ বিএম কিবরিয়ার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। বিএম কিবরিয়া শাহপুর বাজারের পশ্চিম মাথায় রয়েছে টিনের ব্যবসা। অনেকটা স্বামী স্ত্রীর মতই ছিল কিবরিয়া ও মুর্শীদার মেলামেশা। কিবরিয়ার অবাধে যাতায়াত চলে মুর্র্শীদার ঘরে। আব্দুর রহমানের মৃত্যুর কিছুদিন আগে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলেও প্রচার হয়।
পাশের বাড়ির ইজিবাইক চালক মোঃ রাশেদ আকুঞ্জী জানায়; কিবরিয়া বিভিন্ন সময়ে খাবারসহ জিনিসপত্র নিয়ে প্রায়ই মুর্শীদার ঘরে প্রবেশ করতো। যা সবার নজরে ছিল।

আব্দুর রহমান গাজীর সৎ মা রহিমা বেগম (৬৭) জানায়; বৃহস্পতিবার (২৭) ফেব্রুয়ারি) আত্মহত্যার আগে রহমান তার স্ত্রীর কাছে ফোন দেয়। কিন্তু তার স্ত্রী ফোন রিসিভ না করায় আমাকে ফোনে বিষয়টা জানায়। পরে আমি মুর্শীদাকে ডেকে দিলে উত্তরে সে বলে আমার ফোন চার্জে আছে। পরে আমার কথামত মুর্শীদা আব্দুর রহমানের ফোন রিসিভ করে এবং আমাকে সরে যেতে বলে। পরে পাশে থাকা লোক মারফত জানতে পারি আব্দুর রহমান তার স্ত্রীকে কিবরিয়ার পথ থেকে সরে আসতে অনুরোধ করে। কিন্তু প্রতিত্তোরে মুর্শীদা তার স্বামীর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানা, আমি কিবরিয়াকে প্রয়োজনে বিয়ে করবো। তোমার মত স্বামী আমার কোন প্রয়োজন নেই।
কল কেটে দিয়ে কিছুক্ষণ পর মুর্শীদা তার স্বামীর ফোনে কয়েকবার রিং দিলে তা আর রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে সৌদি প্রবাসি ওলিয়ারের স্ত্রীর মাধ্যমে ওলিয়ারের ফোনে মুর্শীদা রিং করিয়ে তার স্বামীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায়। তখন তাদের কর্মস্থল থেকে প্রায় ৫ শ গজ দূরে মরুভূমির মধ্যে একটি কুঁড়ে ঘরে আব্দুর রহমানের ঝুলান্ত লাশ দেখতে পায়।

আব্দুর রহমান গাজী বৃহস্পতিবার আত্মহত্যার দিন সকালে স্বজনদের অনেকের সাথে মোবাইলে তার পারিবারিক কষ্টের কথা জানায়। এমনকি সৌদি আরবে সহকর্মীদেরও পারিবারিক কষ্ট আর যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করবে বলেও জানায়।
আব্দুর রহমানের সৎ মা রহিমা বেগম আরও জানায়; আত্মহত্যার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টায় আমাকে ফোন দিয়ে রহমান মুর্শীদার ঘরে যেতে বলে। রহমা আমাকে বলেছিল ঘরে লোক ঢুকেছে, আমাকে সে ভিডিও কলের মাধ্যমে লোকটাকে দেখিয়েছে। তখন আমি বউমাকে ডাকলে দরজা না খোলায় আমি ফিরে আসি।
আত্মহত্যার আগে মুর্শীদার পরকীয়া বিষয় নিয়ে আব্দুর রহমান তার বোন সালমা, ভাগ্নি সোনিয়া পপিসহ অনেকের সাথে কথা বলেন। ভাষ্যমতে আব্দুর রহমান অতি কষ্টে তাদের জানায়; আমার সুখ নেই। সবই আমার কপাল। আমি মুর্শীদাকে ফেসবুক আইডি বন্দ করতে বলেছি কিন্তু সে বলেছে এটা সম্ভব না। সে নাকি কিবরিয়াকে বিয়ে করেছে। এ সমস্ত কথা আমাকে বলছে।
আব্দুর রহমান গাজী আত্মহত্যার আগের দিন দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার অনেক ইঙ্গিত ফেসবুক টাইমলাইনে দিয়েছিলেন।
২৬ ফেব্রæয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় ৩ মিনিটে আব্দুর রহমান গাজী তার ফেসবুক টাইমলাইনে স্ট্যাটাসে লিখেছেন; আমার মন চায় এই দুনিয়া থেকে অনেক দূরে চলে যেতে, জানিনা এভাবে চলতে গিয়ে থেমে যাবে আমার দম মেশিন।
এদিন ৭টায় ৪২ মিনিটের স্ট্যাটাস – আমার ছুটে চলা জীবনে অনেকের সাথে চলছি এই চলার মধ্যে একজনকে বেশি আপন করে ছিলাম। আর সেই আমার দুনিয়ায় থাকার সাধ বুঝিয়ে দিয়েছে।
রাত ৮টায় ৪৯ মিনিটে লিখেছেন-জীবনে এমন মেয়ে জীবন সাথী করবেন আপনি ভুল করলে সে সঠিক পথ দেখাবে। পরদিন আব্দুর রহমান গাজী স্ত্রী মুর্শীদা ও তার স্বজনদের সাথে কথা বলে সৌদি আরবের কর্মস্থলের পাশে মরুভূমির একটি কুঁড়ে ঘরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
কর্মস্থলে সহকর্মীরা আব্দুর রহমানের অবস্থান না থাকায় তাকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে মরুভূমির মাঝে একটি ঘরে ঝুলান্ত অবস্থায় আব্দুর রহমানের লাশ উদ্ধার করেন প্রবাসি চাচাতো ভাই এমদাদুল হক ও ওলিয়ার রহমান। লাশ নামানোর সময় তারা আব্দুর রহমানের মোবাইল সেটটি আত্মহত্যা করা ঘরের চালে স্থাপন করা ছিল। ধারণামতে আত্মহত্যার দৃশ্য তার স্ত্রীকে প্রদর্শন করছিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আব্দুর রহমানের আত্মহত্যার নেপথ্য কাহিনী উদঘাটন ও ৩ সন্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আন্দুলিয়া গ্রামের ঐ বাড়িতে শোকাহত পরিবেশে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এক বৈঠকে মুর্শীদা সুলতানা তার পরকীয়া প্রেমের উপাখ্যান অকপটে স্বীকার করেন ।
বৈঠকে উপস্থিত সুধিজনদের নিকট মুর্শীদা সুলতানা জানায়; আব্দুর রহমান বিভিন্ন সময়ে কিবরিয়ার স্ত্রীর মোবাইলে ম্যাসেস দিত। তখন আমি আমার স্বামীকে বলেছিলাম আমিও কিবরিয়ার সাথে পরকীয়া প্রেম করবো। কিন্তু মুর্শীদা বৈঠকে তার কোন প্রমান দেখাতে পারেননি। যা এলাকাবাসি অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

মামলার বাদী আকাশ গাজী পিতার আত্মহত্যার প্ররোচণাকারীদের বিচার দাবি করে বলেন; বি এম কিবরিয়া ও সৎ মা মুর্শীদা পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে অনৈতিক জীবন যাপন করার বিষয়টি আমার পিতাকে মোবাইল ফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখায় এবং আমার পিতাকে কু-প্ররোচণা দিয়ে আত্মহত্যার সহযোগিতা করায়আমার পিতা বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন।

স্ত্রীর পরকীয়ায় সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহমান গাজীর (৪৬) জীবন বিষিয়ে উঠেছিল। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই পরকীয়া প্রেম শুরু করেছিল স্ত্রী মুর্শীদা সুলতানা। পরকীয়ার দৃশ্য ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি প্রদর্শণ করতো স্বামীকে। বিদেশের মাটিতে স্ত্রীর পরকীয়াসহ নানা অপকর্মের খবরে মরণ যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছিল আব্দুর রহমান। শেষমেশ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রæয়ারী) বেলা ১ টায় সৌদি আরবের আসের বিন যায়ের নামক স্থানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার খবরটি সাথে সাথে ইন্টারনেট- মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে আব্দুর রহমান গাজীর পরিবারের শোক কাটিয়ে না উঠতেই তারা স্বামী স্ত্রী হিসেবে শাহপুর গ্রামে মিজান গাজীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে কিবরিয়া পূর্বের স্ত্রী ও সন্তান ফেলে পাশবর্তী শাহপুর গ্রামে বসবাস করছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রঘুনাথপুর ক্যাম্প পুলিশ শাহপুর বাজারের দোকান থেকে বিএম কিবরিয়াকে গ্রেফতার করে এবং ভাড়া বাড়ি থেকে মুর্শীদাকে গ্রেফতার করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu