শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
রূপসা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত রূপসায় গম প্রদর্শনীর উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত অনিয়ম দূর্ণীতির অভিযোগে ডুমুরিয়ার নুরানিয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কে সাময়িক বহিস্কার। দিঘলিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর দিঘলিয়ার খাল থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার ! দিঘ‌লিয়া উপ‌জেলা আইন শৃঙ্খলা ক‌মি‌টির সভা অনু‌ষ্ঠিত মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষে পাইকগাছা বিএনপি’র প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত করোনা কালীন চিংড়ি চাষের সমস্যা ও পন্থা নির্ধারণ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত  রূপসায় লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক গণশুনানী অনুষ্ঠিত রূপসায় কোভিড-১৯ মহামারী কালীন সময়ে সমস্যা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

সোনাডাঙ্গায় চুরির ঘটনা আড়াল করতে জিডিই সার আজো উদ্ধার হয়নি দিন মজুরের শখের ফোন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০
  • ৯২ জন সংবাদটি পড়েছেন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার গল্লামারী খোরশেদ নগর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম সজীব। পেশায় একজন রং মিস্ত্রি। শখ করে নিজের তিল তিল করে জমানো টাকা দিয়ে একটি পুরাতন এন্ড্রয়েড ফোন ক্রয় করেন মাস খানেক আগে। কিন্তু বিধি বাম। অন্যান্য দিনের ন্যায় কাজের উদ্দেশ্যে একই থানার পার্শ্ববর্তী এলাকা আল আমিন মহল্লাস্থ ইউসেফ স্কুলের বিপরীতের বাসিন্দা শফিকুর রহমানের বাসায় রং মিস্ত্রির কাজে যান তিনি এবং সেই বাড়ির নিচতলায় গেইটের সামনে রুটিন মাফিক কাজ করছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই চোখের সামনে থেকে শখের সে ফোনটি উধাও।
প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো কাজে একটু বাড়তি চাপ দিতেই বাড়ির মালিক শফিকুর রহমান ফোনটি অন্যত্র সরিয়ে রেখেছেন। কিন্তু দুপুরে খেতে যাওয়ার সময় যখন রং মিস্ত্রি সজিব বাড়ির মালিক শফিকুর রহমান সাহেবের কাছে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান বাড়ির মালিক সাফ জানিয়ে দেন যেহেতু তার জিম্মায় ফোনটি রাখা হয়নি এবং এই ওয়ার্ডটিতে এমন চুরির ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে বলে তাকে পূর্বেই সতর্ক করা হয়েছিল সেহেতু এ দায় তার নয়।
ভুক্তভোগী ঐ রং মিস্ত্রি জানান, আমার বদ্ধমূল ধারনা ফোনটি বাড়ির মালিকই সরিয়েছেন কিন্তু অনেক লোক জানাজানি হয়েছে বলে তিনি সেটা ফেরত দিতে চাইছে না। এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি যার নম্বর-৬৮৬।
তবে ফোনটি ফেরৎ পাবেন কি-না,অথবা নতুন কোন বিড়ম্বনার শিকার হবে কি-না এনিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ঐ ভুক্তভোগী। এতো গেলো সামান্য এক দিন মজুরের শখের বিড়ম্বনার কথা।
মহানগরী খুলনায় প্রায় প্রতিদিন ঘটছে চুরি ছিনতাইয়ের অসংখ্য ঘটনা। সাধারণত চোর বা ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণহানি ঘটলে বা বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিলেই আলোচনায় আসে চোর ছিনতাইকারীদের বিষয়টি। এর বাইরে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, স্বর্ণালংকারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস চুরি বা ছিনতাই হলে অধিকাংশ ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে আইনি প্রতিকার চাইতে যান না। কেউ কেউ গেলেও চুরি ছিনতাইয়ের মামলা করতে পুলিশ নিরুৎসাহিত করে। অনেক ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করেই হারানোর জিডি করতে বাধ্য করা হয়। এমনটি দাবি করেছেন অনেক ভূক্তভোগী।এতে থানায় প্রতি মাসে কত সংখ্যক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে তার সঠিক চিত্র ধামাচাপা পড়ছে। আসল ঘটনা আড়াল করলে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরাও একধরনের কৃত্রিম স্বস্তির মধ্যে থাকার আনন্দ পান। অপরাধ আড়াল করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও প্রতি মাসে জবাবদিহি করতে হয় না মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের। এদিকে থানায় জিডি হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে হারানো, চুরি অথবা ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্বারে থানা পুলিশের ভূমিকা বরাবরের মত নির্বিকার। হারানো সংক্রান্ত যে কোনও মামলা/জিডি ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য। তবে হারানো সংক্রান্ত জিডি অনুসন্ধান অথবা তদন্তে বেশিরভাগ পুলিশ কর্মকর্তাদের অনীহা রয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। ফলে এ সংক্রান্ত জিডি থানায় শুধু নথিভুক্ত হিসেবেই থেকে যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, থানায় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ মূল্যবান বস্তু হারানো সংক্রান্ত জিডি প্রতিনিয়তই হচ্ছে। চুরি হওয়া, ছিনতাইকৃত অথবা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন কেনার অনেক সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা এসব চোরাই মোবাইলফোনের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি) নম্বর পরিবর্তন করে ফেলে। এরপর সেগুলো আবার বিক্রি করে থাকে। এদিকে দামি ফোন বা ডিভাইস হলে সেগুলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাঠিয়ে দেয়। এতে করে হারিয়ে যাওয়া অনেক মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। কারণ আইএমইআই নম্বর কার্যকর থাকে না।’
হারানো মোবাইল ফোন সংক্রান্ত জিডি’র একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, একটি মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বের করতে হলে কম্পিউটার অপারেটরকে টাকা দিতে হয়। নয়তো তারা কাজ করে না। কিন্তু ভুক্তভোগীর কাছে তো টাকা চাওয়া যায় না। ফলে নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করেই মোবাইলের সিডিআর তুলতে হয়। তাই পুলিশ সদস্যরা মোবাইল ফোন হারানো সংক্রান্ত জিডি তদন্ত করতে আগ্রহ কম দেখান।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu