মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

রূপসায় ব্রিধান-৮৭ এর বাম্পার ফলনঃ দারুণ খুশি কৃষক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৭৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

মো: আবদুর রহমানঃব্রিধান -৮৭ অধিক ফলনশীল জাতের একটি রোপা আমন ধান। এ জাতটির জীবনকাল কম হওয়ায় ধান কর্তনের পর একই জমিতে অনায়াসে রবি ফসল বিশেষ করে সরিষা ও মসুর চাষ করা যায়। ব্রিধান-৮৭ জাতের ধানের চাল লম্বা ও চিকন হওয়ায় বিদেশে রপ্তানিযোগ্য । এ জাতের ধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি অধিক ফলনশীল এবং এর জীবনকাল কম । পূর্ণ বয়স্ক ধান গাছ ১২২ সেঃ মিঃ পর্যন্ত লম্বা হয়। ব্রিধান – ৮৭ জাতের ধানের ডিগ পাতা খাড়া, লম্বা ও চওড়া এবং পাতার রং হালকা সবুজ । এ জাতের ধান গাছের কান্ড শক্ত তাই গাছ লম্বা হলেও ঢলে পড়ে না । ধানের ছড়া লম্বা ও ধান পাকার সময় ছড়া ডিগ পাতার উপরে থাকে। ধান পাকার সময় কান্ড ও পাতা সবুজ থাকে। বিধায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে ফলে শিষের গোড়ার ধানও পুষ্ট হয়। এর গড় জীবনকাল ১২৭ দিন । হেক্টর প্রতি ৬.৫ টন ফলন পাওয়া যায়। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ব্রিধান -৮৭ জাতটি প্রতি হেক্টরে ৭.০ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ ধানের চালের আকার ও আকৃতি লম্বা ও চিকন এবং রং সাদা । এক হাজার পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৪.১ গ্রাম। চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৭ ভাগ । এ ধানের চালের ভাত ঝরঝরে।
মোঃ আঃ কাদের শেখ (৬০)। রূপসা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের একজন আদর্শ কৃষক । তিনি এবছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় এক একর জমিতে ব্রিধান-৮৭ জাতের একটি রোপা আমন ধান বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করেন । সম্প্রতি এ প্রদর্শনীর নমুনা কর্তন করে হেক্টর প্রতি সাড়ে ছয় মেট্রিকটন ধানের ফলন পাওয়া গেছে। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ২৩ মণ । ধানের এ বাম্পার ফলন পেয়ে দারুণ খুশি কৃষক আঃ কাদের ।
আঃ কাদের জানান, বীজতলায় বীজবপণ ও চারা রোপণের পর মাত্র ১৩০ দিনের মধ্যে তিনি এ ধান কর্তন করে বিঘা প্রতি ২৩ মণ ফলন পেয়েছেন । অল্প সময়ে অধিক ফলন হওয়ায় এলাকার অন্যান্য কৃষকদের মাঝেও এ জাতের ধান চাষে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে এ গ্রামের অনেক কৃষক তার নিকট বীজের জন্য এ ধান ক্রয় করতে চেয়েছেন। তিনি এধান বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করে তা আগ্রহী কৃষকদের মাঝে বিক্রি করবেন। যাতে আগামীতে আলাইপুর গ্রামে ব্রিধান-৮৭ ধানের ব্যাপক চাষ হয়।
একই গ্রামের মোঃ আবুল হাসান, মোঃ আনোয়ার হোসেন, লুৎফর রহমান শেখ ও ইসলাম সরদার সহ বেশ কয়েকজন কৃষক এবছরই প্রথম ব্রিধান-৮৭ জাতের ধান চাষ করেছেন। ভালো ফলন পাওয়ায় তারা খুব খুশি । কৃষকরা জানান, এ জাতের ধানে পোকামাঁকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক কম। বিশেষ করে ক্ষতিকর বাদামি গাছ ফড়িং (কারেন্ট পোকা) আক্রমণ হওয়ার আগেই এ ধান কর্তণ শুরু হয়।
রূপসা উপজেলার কৃষি অফিসার জনাব মোঃ ফরিদুজ্জামান বলেন, ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প এবং বীজ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলায় মোট ১৭৩ হেক্টর জমিতে ব্রিধান-৮৭ জাতের ধান চাষ হয়েছে। এ জাতটি স্বল্প সময়ে অধিক ফলন দেয়। এ জাতের ধান চাষ ও বীজ উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহী করতে এ উপজেলায় ৫ টি এসএমই কৃষক মাঠ স্কুল ও বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী বাস্তবায়িত হচ্ছে । তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে আমন ধান বীজ উৎপাদন প্রদর্শনীর কয়েকটি নমুনা শস্য কর্তন করে আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেছে । এসব প্রদর্শনীতে উৎপাদিত ধান বীজ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আগামীতে এ ধানের চাষ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।
ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য শস্য । আমাদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ক্যালোরির শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই আসে ভাত থেকে । এ দেশের মাটি ও আবহাওয়া ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী । তাই করোনা পরবর্তী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্বল্প সময়ে অধিক ফলনশীল ব্রিধান-৮৭ সহ এ জাতীয় ধান চাষের ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া একান্ত প্রয়োজন।

লেখক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিস , রূপসা, খুলনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu