শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
খুলনায় মাস্ক না পরায় ২৭১ জনকে জরিমানা, আটক ১৫৫ খুবিতে টিস্যুকালচারের মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্যের ধানের জাত উদ্ভাবনে গবেষণা প্লটের নমুনা শস্য কর্তন রূপসায় সরকারি প্রণোদনার বীজ বিতরণ ডুমুরিয়ায় ঐতিহ্যবাহী দড়াটানা প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ড্রেনেজ এবং সড়কের চলমান উন্নয়ন কাজ পরিকল্পনামাফিক হতে হবে-কেসিসি মেয়র খুলনার আদালতে গোবিন্দ হত‌্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ড মাস্ক না পরায় ডুমুরিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে  জরিমানা এ-টেক্স ইন্টারন্যাশনাল লি: এর সহযোগিতায় অনুশীলন মজার স্কুলের ১২০জন শিক্ষার্থীকে খাদ্য সামগ্রী প্রদান  রূপসায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে আলোচনা সভা ও মানববন্ধন ডুমুরিয়ায় চিংড়িতে জেলি পুশের অপরাধে ডিপো মালিককে জেল-জরিমানা

কৃষকের সোনালী স্বপ্নে কারেন্ট পোকার আক্রমন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৫ জন সংবাদটি পড়েছেন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃধান ক্ষেতে কারেণ্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় কপাল পুড়ার উপক্রম হয়েছে কৃষকের! গেল বছর কারেণ্ট পোকার আক্রমণে জমি থেকে ঘরে ধান তুলতে পারিনি। এ বছরও আমন ধানের জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। মনে হয় এইবারও কপাল পুড়লো।
বুধবার দুপুরে মাথায় হাত রেখে কথাগুলো বলছিলেন খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা বিলের কৃষক  আরমান শেখ (৭০)। তিনি বলেন, এ বছর ৬ বিঘা জমিতে মরিচ শাইল (মোটা) ও ইরি ধান-২৩ লাগিয়ে ছিলাম। চড়া মূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে আমার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ধানে কারেন্ট পোকা দেখা দেওয়ার কারণে আতঙ্কে রয়েছি। প্রায় ২ বিঘা জমির ধান কারেন্ট পোকায় শেষ করে দিয়েছে। মনে হয় এবারও শেষ রক্ষা হবেনা। কারেন্ট পোকা থেকে ধান বাঁচাতে এই ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আপনাদের কী ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষক মু. আরমান শেখ বলেন, আমাদের পরামর্শ দিতে কেউ আসেনা। এই জায়গায় কে দায়িত্বে আছে তাকেও ঠিক ভাবে চিনি না। জানা যায়, উপজেলার বাগমারা, চর রূপসা, রামনগর, রহিমনগর, জাবুসা, তালিমপুর, জয়পুর, নিকলাপুর, ইলাইপুর গ্রামবাসীর চাষাবাদের স্থান বিল জাবুসা হলেও বাগমারা, চর রূপসা, রামনগর, রহিমনগর ও জাবুসা গ্রাম নিয়ে গঠিত বাগমারা ব্লক। যে ব্লকে রয়েছে এই বিশাল বিলটি। এখানে নয়’শ হেক্টর জমি থাকলেও অনাবাদি, আবাস ভূমি ও সরকারি খাল ছাড়া প্রায় সাড়ে সাত’শ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়ে থাকে। এসব জমির উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার চাষী। চলতি আমন মৌসুমে চড়া মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক ক্রয়সহ কৃষাণ নিয়ে জমি চাষ করলেও কারেন্ট পোকার আক্রমণে চাষীদের সোনালী স্বপ্ন ধুয়াসায় রূপ নিয়েছে।
গত বছরের মত এ বছরও জমির ফসল বিনষ্ট হলে তাদের কষ্টের শেষ থাকবেনা। এ কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে মৌসুমী চাষীরা। ইতোমধ্যে ক্ষেতের অনেক স্থানের ধান গাছ মারা গেছে। অপরদিকে কারেণ্ট পোকার আক্রমণের পাশাপাশি জমির ধান গাছ মাত্রা অতিরিক্ত বড় হওয়ায় জমিতে নেমে কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারছেনা চাষীরা। উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক নিয়াম শেখ বলেন, গত বছর কারেন্ট পোকার আক্রমণে যে ক্ষতির শিকার হয়েছি, তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তারপরও ধার-দেনা করে জমি চাষ করেছি। এবছরও সেই পোকার আক্রমণে জমির ফসল থোড় থেকে বের হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষক খানজাহান আলী বলেন, কারেন্ট পোকার আক্রমণে গত বছরতো আমরা একটুও ধান ঘরে তুলতে পারিনি। এবছর সেই একই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন সরকার যদি আমাদের দিকে একটু তাকাই তাহলে হয়তো এ বিলের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার কৃষক বাঁচবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য. ইলিয়াছ হোসেন শেখ বলেন, এই বিলের কৃষকরা গত বছর কোন ধান পাইনি। তারা অতিরিক্ত লোকসানের শিকার হয়েছে। মণ প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বীজ ধান কিনে কৃষকরা জমি চাষ করেছে। তারপরও এবছর যে তারা ফসল পাবে এমন কোন আশা করা যাচ্ছে না। কারণ অনেক জমি পোকায় খেয়ে বসে গেছে। আবার অনেক জমির ধান গাছ অতিরিক্ত বড় হওয়ায় জমিতে নেমে কীটনাশক প্রয়োগ করা কোনভাবেই সম্ভব না। তাই কৃষি বান্ধব সরকার যদি হেলিক্যাপ্টার বা অন্য কোন মাধ্যমে এসব জমিতে কীটনাশক দেয়ার ব্যবস্থা করে তা’হলে কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।
নৈহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বুলবুল বলেন, গত বছর পোকার আক্রমণ থেকে জমি বাঁচাতে উপজেলা কৃষি অফিসারসহ আমরা অনেক চেষ্টা করেও ফসল রক্ষা করতে পারিনি। এবছরও সেই একই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জমির ফসল যদি না বাঁচে তা’হলে কৃষকরা দুর্ভোগে পরবেন। কারণ তারা এই জমির উপরই নির্ভরশীল। আমরা অবশ্য আমাদের পক্ষ থেকে জমির ফসল রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে সরকারিভাবে যদি কোন ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে সমাধান হতে পারে। তাছাড়া সম্ভব না।
নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমাদ্রী বিশ্বাস জানান, কারেন্ট পোকার আক্রমণ সে-ই ভাবে দেখা যায়নি। জাবুসা বিলের একজন কৃষকও বলতে পারবে না, কারেণ্ট পোকার জন্য ধান নষ্ট হয়েছে। এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে।
রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মু. ফরিদুজ্জামান বলেন, সামান্য কিছু জমিতে পোকা আক্রমণ করলেও অন্য সব জমিতে ফসল ভালো হয়েছে। পোকার কবল থেকে রক্ষা পেতে আমরা যে ভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করতে বলেছি সেভাবে প্রয়োগ করলে ঠিক হয়ে যাবে। গত বছরের মত বড় ধরণের কোন ক্ষতির আশংকা নেই। তিনি আরও বলেন, এবছর মৌসুমের শুরুতে আমরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নতজাতের ধান রোপন করতে বলেছি। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার ব্যাপারে জমিতে ডাল পুতে পাখি বসার ব্যবস্থা, আলোক ফাঁদ দিয়ে পোকা নিধন, কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক এবং এই পোকা দমনে করণীয় লিফলেট বিতরণ করেছি। পোকার উপস্থিতি, পোকার আকার কেমন এবং কি কি ওষুধ কিভাবে ব্যবহার করতে হবে এর বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত ব্যানার টানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu