রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

খুলনায় নারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বড়ি তৈরির কাজে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১২৭ জন সংবাদটি পড়েছেন
 নিজস্ব প্রতিবেদকঃখুলনার ৯ উপজেলার গ্রামে গ্রামে মাসকলাই ও চালকুমড়া দিয়ে কুমড়ো বড়ি তৈরি করার ধুম পড়েছে। নিজেদের খাওয়ার জন্য এগুলো তৈরি করে থাকেন অনেক পরিবার। তবে কুমড়াবড়ি তৈরি করে অনেক পরিবারের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম। শীতের ভোরে গ্রাম গুলোতে নারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বড়ি তৈরির কাজে। দলবেধে বড়ি তৈরির কাজ করছেন তারা। মাসকলাই ভিজিয়ে রাখার পর সেটি দিয়ে ডালের আটা ও পাকা চাল কুমড়ো মিশিয়ে এ সুস্বাদু বড়ি তৈরি করা হয়। মাটিতে মাদুর বিছিয়ে, আঙিনায় মাচা তৈরি করে সেগুলো রোদে শুকানো হচ্ছে।
গ্রামীণ এলাকার প্রায় ৯০ ভাগ মহিলা পালা করে কুমড়ো বড়ি দেয়ার কাজটি করে থাকেন। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা ঘুরে জানা যায়, এই অঞ্চলের নারীরা এই বড়ি তৈরি করতে কয়েক মাস পূর্বে থেকে চাহিদা মতো চাল কুমড়ো পাকানোর ব্যবস্থা করে থাকেন। এরপর মাসকলাই দিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু খাবারের অংশ বিশেষ কুমড়ো বড়ি। কুমড়ো বড়ি তৈরিতে মূলত চালকুমড়া এবং মাসকলাইয়ের ডাল প্রয়োজন হয়। মাসকলাইয়ের ডাল ছাড়াও অন্য ডালেও তৈরি হয় এ বড়ি। রোদে মচমচে করে শুকালেই এর ভালো স্বাদ পাওয়া যায়।
বড়ি তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের রুমানা বেগম জানান, বড়ি তৈরির আগের দিন ডাল ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর চালকুমড়া ছিলে ভেতরের নরম অংশ ফেলে মিহিকুচি করে রাখতে হবে। তারপর কুমড়ো খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়া হলে পরিস্কার পাতলা কাপড়ে বেঁধে সারা রাত ঝুলিয়ে রাখতে হবে। পরে ডালের পানি ছেঁকে শিলপাটায় বেটে নিতে হবে। এবার ডালের সঙ্গে কুমড়া মেশাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খুব ভালো করে হাত দিয়ে মিশাতে হবে যতক্ষণ না ডাল-কুমড়োর মিশ্রণ হালকা হয়। তারপর কড়া রোদে চাটি বা কাপড় বিছিয়ে বড়ির আকার দিয়ে একটু ফাঁকা ফাঁকা করে বসিয়ে শুকাতে হবে। বড়ি তিন থেকে চার দিন এভাবে রোদে শুকানোর পর তা অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।
একই উপজেলার কল্যান শ্রী গ্রামের জেসমিন বেগম জানান, শীতের সময় মূলত বড়ি তৈরি করা হয়। নিজেরা খাওয়াসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও পাঠানো হয়। ওই এলাকার শ্যামলী সুতার বলেন, কুমড়োর বড়ি তৈরিতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। রাত জেগে শীলপাটায় কেজি কেজি ডাল বাটা সহজ কাজ নয়। তবুও কষ্ট করে আমাদের কুমড়ার বড়ি তৈরি করতে হয়। শীত মৌসুমে এ বড়ি তৈরি করে সারা বছর আমরা এগুলো নিয়ে বিভিন্ন প্রকার তরকারি রান্না করে খেয়ে থাকি।
এছাড়া অনেকে আছে যারা বাড়িতে বসে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে অনেক টাকা লাভ করে থাকেন। বটিয়াঘাটা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরদার আ. মান্নান বলেন, কুমড়া বড়ি তৈরির জন্য গ্রামের নারীরা শীত আসার ২-৩ মাস আগে থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকেন। তবে কুমড়ো বড়ি একটি সুস্বাদু খাবার এবং শীত কালে এই বড়ি তৈরি করতে মহিলারা অনেক ব্যস্ত সময় পার করে থাকেন।
Aa

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu