শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

ডুমুরিয়ায় ৫ টি বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কৃষকদের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৬৭ জন সংবাদটি পড়েছেন
 লতিফ মোড়ল,ডুমুরিয়াঃবিগত কয়েক বছর ধরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিল কাটেঙ্গা,বরুনা, দহকুলাসহ অন্তত ৫টি বিল স্হায়ী জলবদ্ধতার শিকার। বিলের পানি নিষ্কাশনের  নদীতে পলি পড়ে নদী এখন ভরাট। যে কারণে বিলে দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ধান উৎপাদনে প্রতিকুল পরিবেশে কৃষকরা  দিশেহারা। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের সোনালী ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন। সেই সোনালী স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৈরীতা কাঁটাতে লড়াই করছেন তাঁরা। বিকল্প পদ্ধতিতে বিলের পানি নিষ্কাশনে ৫টি বিলে ২০টি শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচের মাধ্যমে ধান রোপনের চেষ্টা করছেন কৃষকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিনে যেয়ে দেখা গেছে; ডুমুরিয়া উপজেলার উত্তর-পশ্চিম অংশে প্রবহমান হঁরি নদী এবং তার শাখা টুঙ্গি ও নঈমুদ্দিনের খাল পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বিল কাটেংগা, বরুনা, শালাতিয়া, তাওয়ালিয়া ও দহাকুলার প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২-৩ বছর ধরে বিলের মধ্যে অবস্হিত ছোট ছোট মৎস্য ঘের (পকেট ঘের) থেকে পানি সেচে কৃষকেরা ধান চাষ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে ব্যক্তিগত ভাবে ঘের থেকে পানি বাইরে ফেলানোর কোন পথ নেই। ফসল উৎপাদনের জন্য বিলের পানি সরানোর ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকেরা বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন। উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় কৃষকেরা আগামী বোরো মৌসুমে ধান চাষ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ শুরু করেছেন। বিঘা প্রতি কৃষকেরা ৯’শ থেকে ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত চাঁদা উঠিয়ে সেচ কাজে ব্যয় করছেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন,খুলনা (বিএডিসি) থেকে এ পর্যন্ত ১৬টি শ্যালো মেশিন ভাড়া নিয়ে সেচ শুরু করেছেন কৃষকেরা। শ্যালো মেশিন দিয়ে জমি থেকে পানি সেচে অপসরাণ করে হরি নদীতে ফেলছেন। আরও ৪টি শ্যালো মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ধামালিয়া ইউনিয়নের কাটেংগা গ্রামের ইউপি সদস্য গোলাম আজম হালদার বলেন; তিনি ৯ বিঘা জমির পানি সেচ বাবদ ৯ হাজার টাকা দিচ্ছেন। কাটেংগা বিলে পানি সরানোর কোন ব্যবস্থা না থাকায় গত ৩ বছর ধরে বিকল্পভাবে পানি সেচ দিয়ে ধান চাষাবাদ করছেন তিনি। বিলের পানি টুঙ্গির খাল দিয়ে বিল ডাকাতিয়া ও মধুগ্রাম বিল দিয়ে কেওড়াতলা গেট দিয়ে সরানো হত। কিন্তু খালগুলো পলি ভরাট হওয়ার কারণে ৪ বছর ধরে পানি সরানো যাচ্ছে না। তাই বিকল্পভাবে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে পানি সেচ দিয়ে ধান আবাদ করার চেষ্টা করছেন।

ইউপি সদস্য দিবারুল ইসলাম বলেন; বরুণা বিলে নঈমুদ্দিনের গেটের উপর ৫টি মেশিনে প্রতিদিন ১৮ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। যা কৃষকের কাছ থেকে উঠাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাটেংগার বিলে ২টি, বরুনা বিলে ৫টি, শালাতিয়া বিলে ২টি, তাওয়ালিয়া বিলে ৪টি এবং দহকুলা বিলে ৩টি মেশিন দ্বারা সেচ কাজ চলছে।

বরুনা গ্রামের জমির মালিক বিএম জহুরুল হক বলেন; হরি ও শাখা নদীগুলো খনন করে টিআরএম’র মাধ্যমে বিল উঁচু না করলে কৃষকের এ চরম ভোগান্তি দূর হবেনা। তবে অস্থায়ীভাবে খরচ কমাতে বিদ্যুৎ চালিত স্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

ধামালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজোয়ান মোল্যা বলেন; খুলনা বিএডিসি থেকে মেশিন প্রতি ৭ হাজার টাকা দরে ভাড়ায় আনা হয়েছে। নঈমুদ্দিনের খালের গেটের উপর ৫টি মেশিন বসিয়ে সেচ কাজ চলছে। এখানে আরও ৪টি মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। তাছাড়া সেচ কাজের সুবিধার জন্য সরকারী বরাদ্ধ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নঈমুদ্দিনের গেটের পাশে ৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্থায়ী ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন জানান, স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার বিভিন্ন বিলে ধান উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। তবে কৃষকরা ধান চাষ করতে নিজ উদ্যোগে শ্যালো মেশিন দ্বারা পানি সরানোর কাজ করছে। বর্তমানে এটিই উত্তম পদ্ধতি বলে আমি মনে করি। আমি এলাকায় গিয়ে পরিদর্শন করেছি। তবে এসব কৃষকের সরকারিভাবে সহযোগিতার জন্য আমি ইতোমধ্যে ইউএনও সাহেবসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu