শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ডুমুরিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে মানব বন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত ডুমুরিয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে দু’টি প্যানেলে ৫৪ টি মনোনয়ন পত্র জমা পাইকগাছায় সন্ত্রাসী হালিম শিকারীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর থানায় গণ স্বাক্ষরিত অভিযোগ কয়রায় নারী নির্যাতন এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ প্লাটফর্ম সদস্য সমন্বয়ে এ্যাডভোকেসি সভা বাগেরহাট জেলায় পুষ্টি সংবেদনশীল কার্যক্রম অন্তর্ভূক্তিকরণ নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রূপসা উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি ও শপথ অনুষ্ঠান ডুমুরিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনকারীকে জরিমানা রূপসায় স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে পলাশ সভাপতি, মনিরুজ্জামান সম্পাদক, হায়দার কোষাধ্যক্ষ ডুমুরিয়ায় যুব উন্নয়ন দপ্তর আয়োজনে প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও ঋণের চেক বিতরণ ডুমুরিয়ায় গাঁজাসহ মাদক ব্যাবসায়ী ও পরোয়ানাভূক্ত আসামী গ্রেপ্তার -৮

খুলনায় আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ! 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৫৬ জন সংবাদটি পড়েছেন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃআদালতের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে এক সাংবাদিকের পৈত্রিক জমি দখল করে অভিজিত সাধু নামক এক প্রভাবশালী ব্যক্তি স্থাপনা নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানানোর পরও কোন সমাধান মিলছেনা। দেশের একটি বৃহত্তম পরিবহন সেক্টরের কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে অভিজিত সাধুর এই অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউই কথা বলছেন না। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে জমি হারানো সাংবাদিক মহানন্দ অধিকারী মিন্টু মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগি পরিবার জানায়, দীর্ঘ ৭০বছর ধরে সাংবাদিক মহানন্দ অধিকারী মিন্টু’র পরিবারের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে নজর পড়ে ঈগল পরিবহনের ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিজিত সাধু বিভিন্ন ভাবে মিন্টুর জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালানো হয়। এক পর্যায়ে গতবছরের ২৫ নভেম্বর ২০/২৫ জন ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মিন্টু পরিবারের মালিকানাধীণ রেকর্ডীও ও ভোগদখলীয় বসত বাড়ীর জায়গায় দাঙ্গা হাঙ্গমা ও ত্রাসসৃষ্টি করে। জোর পূর্বক প্রায় ২২শতক জায়গা জুড়ে কাঁটা তারের বেড়া দেয়া হয়। পরে ওই জমিতে লাগানো মূল্যবান ফলজ ও বনজ বৃক্ষাদি গাছ কেটে ফেলা হয়। নানা ভাবে মিন্টুসহ তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রভাবিত করে মিন্টুর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তোলা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে অভিজিত সাধু গংদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর অভিজিত কিছু দিন চুপ থাকলেও গতবছর  ২৩ ডিসেম্বর মিন্টু ও তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাসহ পরিবারের ৮জনের নামে থানায় মিথ্যা মামলা  দেন। ২৭ ডিসেম্বর পাইকগাছা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবির উপস্থিতে জমি পরিমাপের জন্য মৌখিক আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু অভিজিত জমি মাপতে রাজি হননি। পরে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে দ্বিগুন শ্রমিক নিয়ে ওই জমিতে সীমান প্রাচীর ও বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।
এ ব্যাপারে মহানন্দ অধিকারী মিন্টু জানান, তার  ঠাকুরমা মৃত ননীবালা অধিকারী ১৯৫৬ সালে ২৫৬৫নং রেজিষ্ট্রীকৃত কবলা দলিল মূলে অভিজিত সাধুর দাদু কুঞ্জু বিহারী সাধুর নিকট থেকে ৩৩ শতক জমি খরিদ করেন। বিগত এসএ জরিপে ননীবালার খরিদকৃত জমি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ওয়ারেশ সাংবাদিক মিন্টুর বাবাসহ তার ৪ ছেলের নামে রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি সরকারি কর খাজনাদি যথারীতি মিন্টুর পরিবার দিয়ে আসছে। চলমান বাংলা ১৪২৭সাল পর্যন্ত কর-খাজনা পরিশোধও করেছেন তারা।
মিন্টুর অভিযোগ, তাদের জমি অভিজিত সাধুরা দখল করতে এলে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময়ে বেদম প্রহার করা হয় মিন্টুসহ তাদের লোকজনকে। এমনকি সেই থেকে খুন করার হুমকি দিচ্ছে অভিজিত। এই ঘটনায় মিন্টুর পরিবার জাতীয় হেলপ লাইন (৯৯৯) মাধ্যমে থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তাছাড়া সিনিয়ার সহকারী জজ আদালত পাইকগাছায় গেল বছরের ১ ডিসেম্বর একটি মামলাও করা হয়েছে। অভিজিতকে আদালত ১ মাসের মধ্যে এই বিষয়ে জবাব দিতে বলেছে কিন্তু এখনও সে জবাব দেয়নি। আদালতের রায়ও তারা মানছে না। ইচ্ছামত গায়ের জোরে তারা কাজ করে চলেছে। অভিজিত নিজেকে দেশের সবচেয়ে বড় পরিবহন সংস্থা ঈগলের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে থাকেন। তাই কেউ তার বিরুদ্ধে কোন কথা বলে না।
এব্যাপারে মিন্টুর অভিযোগ মানতে রাজি না অভিজিত সাধু। তিনি বলেন, জমিতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তাছাড়া আমার পক্ষে আদালতের রায় রয়েছে। তাছাড়া জমি পরিমাপের জন্য তো আদালত লিখিত ভাবে কোন কিছু বলেনি। কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে রাজি হননি।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাজ শফি বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জবর দখলকারী ও শৃংখলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে থানা পুলিশের নজরদারী রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যানকে মিমাংশা করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া ভূমি অফিসের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে বিষয়টি সমাধান করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu