শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
পলাশবাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরের কুয়াদায় ১ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক ডুমুরিয়ায় জলবায়ু সহনশীল বাগদা চিংড়ি উৎপাদন শীর্ষক অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর অনুষ্ঠিত। নেয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভায় আওয়ামীলীগের বিবদমান দুটি গ্রুপ,১৪৪ ধারা জারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ গুলো সর্ব শান্ত হচ্ছে(পর্ব-১) ধামরাইয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি আহত-৪ সারাদেশে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আভাস পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা ও সুবিধাভোগীদের অপব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে স্লুইচগেট, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু শ্যামনগরে র‌্যাবের অভিযানে ৪৫ রাউন্ড কার্তুজসহ গ্রেফতার-২

রূপসায় আশ্রায়ন প্রকল্প – ১ এর অধিবাসীরা জরাজীর্ন অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে, কেউ খবর রাখেনি !

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৭৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

সোনালী ডেক্সঃ খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার গোয়ালবাড়ির চর আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিবাসিরা কেমন আছে গত ২৩ বছর পার হলেও কেউ খবর রাখেনি। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যা, ঝড়, জলচ্ছাস, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টির কারনে ভূমিহীন অসহায় ছিন্নমূল মানুষের উন্নত জীবনের কথা চিন্তা করে ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ন প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপর থেকে বেশ ভালই কাটছিল সেখানে আশ্রিত পরিবারগুলোর জীবন-যাপন। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ অতিবাহিত হলেও দায়িত্বশীলরা কেউই তাদের খবর নেয়নি ! 

মানবতার মা শেখ হাসিনা তৎকালীন সময়ে গোয়াল বাড়ির চর এলাকায় ৪৫ একর জমির উপর ১৮ ব্র্যাকে ১৮০টি পরিবারের মাথা গোজার ঠাই করে দিয়েছিলেন। সরকারী পরিকল্পনার আওতায় ছিল টিনের বেড়া টিনের চালা দ্বারা গৃহনির্মান, পাকা রাস্তা, বিদ্যুতায়ন, স্বাস্থ্যসম্মত বাথরুম, ঘাট বাধা পুকুর, স্কুল, মসজিদ, মন্দির, শ্মশান, কবরস্থান, গৃহপালিত পশু পালনের জন্য চরণভূমি, বনায়ন, হাটবাজার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে ছিন্নমূল মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়ে ছিলেন। অপ্রিয় সত্য হলেও অত্যান্ত দুঃখের বিষয় গোয়ালবাড়ির চর আশ্রয়ন প্রকল্পের ২৩ বছর পার হলেও শুধুমাত্র টিনের বেড়া টিনের চালা দ্বারা ১৮ টি ব্রাক, ৬ টি ঘাট বিহীন পুকুর ২ টি সাইক্লোন সেন্টার ছাড়া অন্য কোনা উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি।

সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারনে  তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। টিনের ছাউনিগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে দেখলে মনেহয় মাছ ধরা জালের ন্যায় ছিদ্র। বৃষ্টির পানি পড়ে নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। কোন স্কুল না থাকায় স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহনে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অতি সহজে ঝুকে যাচ্ছে মাদকের দিকে। গোয়ালবাড়ির চর আশ্রয় প্রকল্পে একটি সমবায় সমিতি আছে। তিন বছর পর পর বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির নেতৃবৃন্দ নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবে বহিরাগতদের নির্বাচিত করে অবৈধভাবে আশ্রয়নের উপার্জিত অর্থ লুটপাট করে খাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু নেতৃবৃন্দ। কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা অনেককে তাড়িয়ে দিয়ে অর্থের বিনিময়ে নিজের মনোপুত ব্যক্তিকে ঠাই দিয়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পে। তাদের জন্য পাকা রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও আজও পর্যন্ত উন্নয়নের নাগাল পাইনি ছিন্নমুল অবহেলিত মানুষগুলো। তাছাড়া একটি ব্রাক গত কয়েক বছর পুর্বে আগুনে পুড়ে ১০ টি পরিবার গৃহহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে সে খবর কেউ রাখেনা।

অপরদিকে আশ্রয়নের নেতৃবৃন্দরা পুকুরের মাছ, নদীর পাড়ের মাটি, নতুন সদস্যদের নিকট থেকে অবৈধ চাঁদাসহ নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ড করে মালিক হয়েছে লক্ষ টাকার। তারা এখন জমি ক্রয় করে অন্য জায়গায় বসবাস করলেও আশ্রায়নে লোভনীয় নেতৃত্বের কথা ভুলতে পারেনি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একজন বাসিন্দা, সাবেক সভাপতি, বর্তমান আহবায়ক মুন্সি আহম্মাদ আলী জানান সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এবং আশ্রয়ন প্রকল্প-৩ এর মাধ্যমে ভূমিহীন ও অসহায়দের পাকা গৃহ, পাকা বাথরুম নির্মাণ করে দিচ্ছে এতে আমরা ঈর্ষান্বিত নই কিন্তু আশ্রয়ন প্রকল্প-১ এর বসবাসকারী আমরা পরীক্ষিত ও প্রমাণিত ভূমিহীন হওয়া সত্বেও আমাদের ভাগ্যের এখনও কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা আশ্রয়নবাসী মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমি গোয়ালবাড়ির চর আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এই ব্রাক গুলোর দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এব্যপারে ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার জনপ্রতিনিধিত্ব করার পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলেছে আজ পর্যন্ত আশ্রায়নে বসবাসকারীদের জন্য আলাদা ভাবে সরকারী কোন বরাদ্দ পাইনি। ইউপি চেয়ারম্যান সাধন অধিকারী জানান ইউপি সদস্যের বক্তব্যের সাথে আমি সম্পুর্ন একমত তবে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে আমার অংশ বন্টনের সময় অন্যান্য এলাকার চেয়ে আশ্রায়নবাসিদের বেশী দিয়েছি।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার ব্যনার্জি জানান ঘটনা সত্য কিন্তু ২ বছর পুর্বে আমি আশ্রায়নে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যবস্থা করেছি। আশ্রায়নের নেতৃবৃন্দ সহযোগীতা না করার কারণে আশ্রায়নের উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছেনা। এব্যাপারে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই আশ্রয়ন বাসীর উন্নয়ন করা সম্ভব হবে এবং যারা আশ্রয়ন প্রকল্পের সম্পদ লুটপাট ও বিনষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu