মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
খুলনা জেলা এসডিজি ফোরামের ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত ফকিরহাটে সড়ক দূর্ঘটনায় ট্রাক চালক নিহত, আহত-২ বর্তমান সরকার সর্বদা গরীব অসহায় এবং দুঃস্থদের সাহায্য করে আসছেন-রূপসায় জুম কনফারেন্সে এমপি সালাম মূর্শেদী “প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা” হতে পারে সবার জীবনে অনুকরনীয় ডুমুরিয়া কলেজ মাঠে মানুষ বিক্রির হাট !           রূপসায় সুন্দরবনের জলদস্যু রাজু গ্রেফতার খুলনা জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক-১ পাবনার আটঘরিয়ায় গৃহিনীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ! হত্যা নাকি আত্মহত্যা ? দিঘলিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষ, আটক-৭ ফকিরহাটে কলেজ ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনায় আটক-১

অবশেষে ৭ মাস পর সিআইডির হাতে শিরিনা হত্যা মামলার প্রধান আসামী রাজা গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১০৭ জন সংবাদটি পড়েছেন
 নিজস্ব প্রতিবেদকঃজেলা সদর কুষ্টিয়ার কানা বিল এলাকার গৃহবধূ শিরিনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাজাকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।
 রবিবার (৩১জানুয়ারী)কানা বিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন স্পর্শকাতর এ মামলাটির তদন্তকারী সিআইডি ইন্সপেক্টর হারুন অর রশিদ।
নিহত শিরিনা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঘোড়ার ঘাট এলাকার মৃত সেলিম শেখের মেয়ে। এদিকে শিরিরা হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত স্বামী রাজা দীর্ঘ ৭ মাস পর সিআইডির হাতে গ্রেফতারের খবরে নিহত শিরিনার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা জানিয়েছেন। এতে সুবিচারের পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।সেই সাথে বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সূত্রে জানা যায়,বিয়ের তিন বছরের মাথায় গত বছর রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিরিনা (২১) নামের এক গৃহবধূর। গত ১২ জুলাই সদরের কানাবিল মোড় এলাকার শশুর বাড়ি থেকে লাশ উদ্বারের পর এটিকে আত্মহত্যা করেছে বলে জানান তার স্বামী রাজা ও তার পরিবারের লোকজন। তবে শিরিনার বাবার বাড়ির লোকজনের দাবি, তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। বিয়ের পর থেকে মোটা অংকের যৌতুকের টাকার জন্য নিয়মিত নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ তাদের। শিরিনার মৃত্যুর দিনই কুষ্টিয়া সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।এই মামলা নিয়েও অভিযোগ ছিলো নিহতের মা শিল্পী খাতুনের। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিহতের স্বামীর সাথে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ তার।
তিনি জানান,ঘটনার দিন অজ্ঞাত পরিচয়ে এক ব্যাক্তি ফোন করে তাকে জানান, শিরিনাকে বেধড়ক মারপিটের পর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান পরিবারের লোকজন। সেখানে গিয়ে শিরিনার নিথর দেহ পান তারা । অথচ লাশের পাশে স্বামীসহ শশুর বাড়ির কাউকেই পাওয়া যায়নি। শিরিনার লাশ দেখে হত্যা মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন মা শিল্পী বেগম। কিন্তু বাধ সাধে পুলিশ। সদর থানার তৎকালীন এএসআই বাবুল চন্দ্র বিশ্বাস নিহতের পরিবারের অজ্ঞতার সুযোগে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মামলা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এবং দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার কথা বলে তৎক্ষনাৎ ৮ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেন। মেয়েকে হত্যার পরও যখন তার স্বামী রাজা ও তার পরিবারের লোকজন বুক ফুলিয়ে ঘুরছিলো সন্দেহ হয় তার। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার অগোচরেই কুষ্টিয়া মডেল থানায় ঐ দিনই একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। পরে তিনি কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ও সদর আমলী আদালতে ৩০২/৩৪ ধারায় নিহত শিরিনার স্বামী রাজাসহ ৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্ত ভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র হাতে ন্যাস্ত করে আদালত। তবে শিরিনা মৃত্যুর ৭ মাস পর মামলার মূল অভিযুক্ত রাজা সিআইডির হাতে আটক হলেও অন্যান্য আসামিরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তিনি আরো জানান, তিন বছর আগে আমার পিতৃহারা মেয়ে শিরিনাকে চাহিদানুযায়ী যৌতুকের টাকা ও গহনাগাটীসহ কুষ্টিয়া সদরের কানা বিলের মোড়ের বাসিন্দা মৃত রিপনের ছেলে রাজার সাথে বিয়ে দেই। বিয়ের আগ থেকেই রাজার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো রাজার, তাছাড়া নিয়মিত মাদক সেবন করতো রাজা। প্রতিবাদ করলে প্রায়শই বেধরক মারধর করা হতো শিরিনাকে।এনিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েক বার বিচার শালিশও হয়। দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে মাদকাসক্ত রাজা।ঘটনার আগের দিন ব্যাবসা আর ঘরের আসবাবপত্র কিনতে শিরিনাকে তার মায়ের কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা এনে দিতে চাপ দেয় সে। শিরিনা সাফ জানিয়ে দেয় তার মায়ের কাছ থেকে আর কোন টাকা পয়সা সে এনে দিতে পারবে না। এতে ক্ষিপ্ত হয় রাজা। পরদিন এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাজা ও তার পরিবারের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে শিরিনাকে।
পরে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজায় তারা।আমার প্রশ্ন হলো আমার মেয়ে যদি সত্যি আত্মহত্যা করে থাকে তাহলে তার শরীরে এত আঘাতের চিন্হ কোথা থেকে এলো আর আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছেই বা সেটা কি পুলিশের খতিয়ে দেখা দরকার ছিলোনা। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান,শুধুমাত্র গরিব আর অসহায় বলে এতদিন আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাইনি। সিআইডিতে মামলাটির তদন্ত ভার যাওয়ার পর আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন তিনি।
তবে মামলা তুলে নিতে প্রতি নিয়ত নানা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে তাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রধান আসামিকে পুলিশ গ্রেফতারের খবরে এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করতে সাহস পাবে না। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি ইন্সপেক্টর হারুন অর রশিদ জানান, গত রবিবার অভিযান চালিয়ে কানা বিল এলাকা একটি বাড়ি থেকে শিরিনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu