শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৭:১০ অপরাহ্ন

ডুমুরিয়া কলেজ মাঠে মানুষ বিক্রির হাট !          

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৭৩ জন সংবাদটি পড়েছেন
লতিফ মোড়ল,ডুমুরিয়াঃ করোনা মহামারি সংক্রমন রোধে দেশে চলছে লকডাউন। এ সময়ে সাধারণ মানুষের বিশেষ প্রয়োজন ব্যাতিত ঘরের বাহিরে  চলাচলে রয়েছে বিধি নিষেধ। যানবাহন চলাচলে রয়েছে সীমাবদ্ধতা। তবুও জীবন-জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবি মানুষ ছুটে চলছে কাজের আসায়।
 আজ সোমবার সকাল ৭-৮ টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে  হাতে পিঠে ব্যাগ, পোঁটলা বাঁধা মানুষের ভিড় দেখা যায়। এরা খুলনা,যশোর সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রান্তিক অঞ্চল থেকে কাজের সন্ধানে আসা অভাবী মানুষ।
বছরের বৈশাখ মাসের শুরু থেকে শেষ সময় পর্যন্ত বোরো ধান কাঁটার এ সময় শ্রমজীবী মানুষের চাহিদা ডুমুরিয়া এলাকায় অনেক বেশি।
তবে এখন করোনা মহামারীর সময়ে প্রতি শুক্র ও সোমবারে ডুমুরিয়া বাজারের কালিবাড়ী মোড়ে শ্রম বিক্রির হাটে (কিষেন হাট) মানুষের ভিড় হচ্ছে অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
এই শ্রম বাজারটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। সম্প্রতি করোনা সংক্রমন রোধে হাট বাজার ব্যবস্হাপনা কমিটি হাটটি ডুমুরিয়া কলেজ মাঠে স্হানান্তরিত করেছে কিষেন হাটটি।শত শত শ্রমজীবী মানুষ হাটে আসেন বিক্রি হতে এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গৃহস্ত মানুষ কৃষিকাজের জন্য তাদের কিনে নেন। চলতে থাকে অন্যান্য পণ্যের মতো দর-কষাকষি। সকালবেলা চাহিদা বেশি থাকে। শ্রমজীবীরা দামও বেশি পান। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলে চাহিদা কমে যায় এবং দামও কমে আসে।
স্থানীয়ভাবে শ্রমজীবীদের বলে দিনমজুর, আবার কেউ বলে কামলা বা কিষেন। ১৮ বছরের কিশোর থেকে শুরু করে ৭৫ বছরের বৃদ্ধসহ  বিভিন্ন বয়সের শ্রমজীবী মানুষ কাজের সন্ধানে দলে দলে ছুটে আসেন এ হাট- বাজারে।
এ মানুষগুলোর অধিকাংশই হতদরিদ্র শ্রমজীবি। ক্রেতাদের কাছে তারা কেউ কেউ এক সপ্তাহ আবার কেউ কেউ এক মাস চুক্তিতে ধান ক্ষেত রোপণ,পরিচর্যা ও ধান কাটা, সবজি চাষাবাদের  জন্য বিক্রি হন। আমন- বোরো ক্ষেত চাষাবাদের সময় এ অঞ্চলে দিনমজুর বা কৃষিকাজের মানুষের বড়ই অভাব থাকে। সোমবার সরেজমিনে ডুমুরিয়া কলেজ মাঠে যেয়ে দেখা গেলো অন্তত চার হাজার শ্রমজীবি মানুষের উপস্হিতি। শ্রমিক ক্রেতার গৃহস্হের সংখ্যাও অনেক। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্হাসহ প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা  চুক্তিতে এ শ্রম বিক্রি হচ্ছে। তবে শ্রম কেনা মালিকের পছন্দের ওপর নির্ভর করে শ্রমের মূল্য। বৃদ্ধের চেয়ে জোয়ানদের চাহিদা বেশি। তবে অনেকে শরীরের গঠন দেখেও ক্রয় করেন। এ যেন পণ্য বিক্রির হাট। বিক্রি হতে আসা শ্রমজীবী মানুষ যেদিন নিজেকে বিক্রি করতে না পারেন, সেদিন তাদের রাত কাটে বাজারের কাছাকাছি মসজিদ, মাদ্রাসা অথবা স্কুলের বারান্দায়। কখনো থাকেন আধা পেটে, কখনো উপোস। সকাল থেকেই ফের বিক্রি হওয়ার আশায় শুরু হয় ছোটাছুটি বলে শ্রমজীবিরা জানান।
বাজারে বিক্রি হতে আসা সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলকার বয়োবৃদ্ধ আমজু মিয়া জানান, কৃষিকাজেই ব্যয় হয়েছে তার যৌবনকাল। এ সময়টায় অবসরে থাকার কথা ছিল। কিন্তু এই বৃদ্ধ বয়সে এখন ডুমুরিয়া হাটে। এখানে শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হয়েছে তার মতো আরো শত শত অভাবী মানুষেরা।
অমেদ আলী ফকির (৭০)খুলনার কয়রা  উপজেলার কৈখালী  গ্রামের বাসিন্দা। চার ছেলেমেয়ের মধ্যে একমাত্র ছেলে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। অভাবের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। জমিজমাও তেমন নেই। বর্গাচাষ করেই চলে সংসার। কিন্তু করোনা মহামারীতে অভাবে পড়ে বর্গাচাষও করতে পারেননি। ঘরে খাবার নেই। এলকায় কাজও নেই। তাই  কাজের সন্ধানে তিনি হাটে এসেছেন। তিনি আরো জানান, তার ঘরে পাঁচজন মানুষ, শরীরও খারাপ। তারপরও অভাবের তাড়নায় কাজের খোঁজে এসেছেন। এখানে মানুষ বেশি, কাজ পাওয়া যায় বেশি। তার দুঃখ বৃদ্ধ হওয়ায় অনেকেই তাকে কাজে নিতে চায় না।
কাজের সন্ধানে আসা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার  এলাকার আবুল খায়ের, মনোয়ার হোসেন, আবদুল করিম বলেন, এ সময় গ্রামের বাড়িতে কোনো কাজকর্ম নেই। তাই এ অঞ্চলে কাজের সন্ধানে ছুটে এসেছি। করোনার লকডাউনে আমরা বেকার ছিলাম। তাই এলাকা থেকে বিভিন্ন যানবাহনে লুকিয়ে রাতের আধারে হাটে এসেছেন বিক্রি হতে। এই এলাকায় কাজের চাপ বেশি। তাই কামলার (শ্রমিকের) চাহিদা বেশি বলে জানান তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu