শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

রূপসার প্রতিবন্ধী কিশোরীর মাশরাফিকে নিয়ে গবেষণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৭৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

চিত্ত রঞ্জন সেনঃ মুনমুন আক্তার আখি (১৮), পিতা আজাদ শেখ একজন সামান্য দর্জি। মাতা রাবেয়া বেগম গৃহিনী, গ্রামের বাড়ী রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামে হলেও সামন্তসেনার একটি বাড়ীতে সে মা বাবার সাথে ভাড়া থাকে। পিতা মাতার ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও মুন কাজদিয়া সরকারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেনি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। এখন বাড়ীতে মুনের কোন কাজ নেই। সারাদিন শুধু চিন্তা ভাবনা মাশরাফি আর মাশরাফি। কবে হবে মাশরাফির সাথে তার দেখা এবং কথা।

এই স্বপ্নকে বুকে নিয়েই মুনমুনের দিন রাত কেটে যায়। মাসরাফি কবে কোথায় জন্ম নিয়েছে, কবে সংসদ সদস্য হয়েছে, কবে অধিনায়ক থেকে অবসর নিয়েছে, কবে মাশরাফির খেলা সুপার হয়েছে, বা কবে খেলায় পরাজয় হয়েছে সবই এখন মুনমুনের দখলে। মুন ফেস বুক খুলেছে যেখানে আইডির নাম দিয়েছে বাংলার ক্রিকেট ভক্ত এবং তার প্রোফাইল পিকচারে মাসরাফির ছবি। তাছাড়া সে অপরাজিত মাশরাফি নামে একটি পেজও খুলেছে। সরেজমিনে ঘুরে, মুন ও তার পিতা মাতার সাথে আলাপ করে জানাগেছে, মুন তার হাত, পা, শরীর নাড়াচাড়া করতে না পারলেও বা ঠিকমতো কথা বার্তা বলতে না পারলেও অর্থাৎ শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও ছোট বেলা থেকেই মুন ছিল মাশরাফির ভক্ত। মুন জানায় মাসরাফির খেলা ভালো হলে সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় এবং তার খেলায় বিপর্যয় হলে দু:খে এবং কষ্টে মুন ১/২ দিন ভাত না খেয়েও সময় পার করিয়ে দেয়। সরেজমিনে দেখা গেল সে ইতিমধ্যেই মাশরাফির জীবনী নিয়ে লেখা প্রভাষ আমিনের “মাশরাফির জন্য ভালোবাসা”, রাকিব আল হাসানের লেখা “মাশরাফিনামা” নামক ২ টি বই সে সংগ্রহ করেছে এবং পড়েছে। বর্তমানে তার ইচ্ছা মাসরাফিকে নিয়ে দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের লেখা বইটি ক্রয় করা। মুন জানায় বইটির মূল্য ৫১২ টাকা। টাকা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। অতিস্বত্তরই সে বইটি কিনতে পারবে বলে আশাবাদী।

দেখা গেল মুনের বিছানায় মাশরাফির ছবি এবং খেলা সংক্রান্ত সংবাদপত্র কাটিংএর একাধিক পেপার। পিতা আজাদ শেখ জানায় মাশরাফিকে নিয়ে মজা করে কোন খারাপ মন্তব্য করলে মুন ২/৩ দিন পিতার সাথে কথা বলে না। তিনি আরো জানান ইচ্ছা ছিলো মুনকে এইচএসসি পর্যন্ত পড়ানো। কিন্তু পরিবারে আরো ২ জনের লেখাপড়ার খরচ তাকে যোগাতে হিমসিম খেতে হয় এবং মুনকে নিয়ে প্রতি নিয়ত স্কুলে যাওয়া আসা খুবই কষ্ট দায়ক বিধায় গত ৫ বছর পূর্বে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। মাতা রাবেয়া বেগম জানান, মুন মাশরাফির এতোই ভক্ত যে, মাসরাফির খেলার দিনে তাকে নিয়ে বাজারে আসতে হয় টিভি দেখতে। এভাবে আর কতো দিন চলে ? অবশেষে মুনের জন্য ৪ হাজার টাকা ধার নিয়ে একটা পুরাতন টিভি কিনে দেওয়া হয়েছে যাতে মুন সব সময় মাশরাফির খেলা দেখতে পারে। তিনি আরো জানান, ২০১১ সালে মাসরাফি বিন মোর্ত্তজা বাংলাদেশ দলে খেলতে না পারায় মুন ছটফট করতে থাকে এবং পরপর ২/৩ দিন কোন ভাবেই তাকে ভাত খাওয়ানো সম্ভব হয়নি। তেমনি ২০১২ সালে এশিয়া কার্পে ২ রানে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পরাজয় হলে মুন পরিবারের সকলের সাথে ৩/৪ দিন কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিল।

মুন জানায়, আমার জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত কাটে হুইল চেয়ার আর বিছানায় কোথাও যাওয়ার সুযোগ নাই। যদি সুযোগ থাকতো তাহলে আমি ঢাকায় বা মাসরাফির বাড়ী নড়াইলে গিয়ে তাকে দেখে আসতাম। কিন্তু আমি হাটাচলা কিছুই করতে পারিনা কি করে হবে আমার স্বপ্ন পূরণ? কি করে হবে আমার মাসরাফির সাথে কথা এবং দেখা ?

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu