বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন

দ্বিতীয় বিয়ে করতে এসে প্রথমা স্ত্রীর ধাওয়া খেয়ে দৌঁড়িয়ে পালালেন বর বেশি স্বামী ও সহোযাত্রীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ১৪৪ জন সংবাদটি পড়েছেন
ডুমুরিয়া সংবাদদাতাঃগোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে  এসে প্রথমা স্ত্রীর রোষানলে পড়ে ধাওয়া খেয়ে কণে’র বাড়ি থেকে পালিয়ে রক্ষা পেলো বর বেশী স্বামী ও তার সহযাত্রীরা।ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার  দিবাগত রাত ১০ টার দিকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বড়ডাঙ্গা গ্রামে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,খুলনার দাকোপ উপজেলা লক্ষীখোলা গ্রামের অবনী ভূষণ বালার ছেলে এবং বটিয়াঘাটা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত প্রতাপ বালা(৩২) প্রেমজ সম্পর্কের মাধ্যমে চালনা এলাকার সুশান্ত সরদারের মেয়ে  খুলনা নগরীতে বসবাসকারি ও একটি বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত  বীনা সরদার(২৫)কে গত ১৩ সেপ্টম্বর ২০১৯ ইং তারিখে সনাতন ধর্মের রীতিনীতি অনুযায়ী বিবাহ করেন।
 পরবর্তিতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মিলে বিয়ের দলিল সম্পাদনের লক্ষ্যে গত ১৮ মার্চ ২০২০ ইং তারিখে খুলনার বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক এ্যাডভোকেট এমদাদুল হকের  কার্যালয় হতে তাদের   হিন্দু বিবাহের  এ্যাফিডেফিট সম্পাদন করেন।
 বিবাহ কালীন প্রতাপ বালা’র কর্মস্হল ছিলো বাগেরহাট জেলায়। অপর দিকে বীনা সরকারের কর্মস্হল খুলনা নগরীতে। তাই স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মিলে খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানার দেনারাবাদ লেন-২ এ জনৈক কবির চেয়াম্যানের বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে উঠেন এবং বসবাস শুরু করেন।
এক পর্যায়ে স্বামী প্রতাপ বালা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত স্ত্রী বীনা সরদারের  সঙ্গে সকল প্রকার যোগাযোগ হঠাৎ   বন্দ করে দিয়ে বটিয়াঘাটা সদরে মেস ভাড়া করে থাকা শুরু করেন এবং পুণ:রায় বিয়ে করতে কণে দেখা শুরু করেন। এক পর্যায়ে ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা শিক্ষক দিপংকর মন্ডলের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে মৌসুমী মন্ডলকে পছন্দ করে গত ৩ মে তারিখে কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেন।
২৭মে বৃহস্পতিবার বর প্রতাপ মন্ডল শতাধিক  বর যাত্রী নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী মৌসুমীকে মহা ধুমধামের সাথে বাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার আয়োজন করে। বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমা স্ত্রী বীনা সরদার ডুমুরিয়া থানা ও উপজেলা প্রশাসনের দারস্ত হয়ে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে অভিযোগ জানান।
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিয়ে বন্দের আইনগত কোন সুযোগ না থাকায় লগডাউনে সরকারি বিধি নিষেধ ও স্বাস্হ্য বিধি মেনে সর্বোচ্চ ১০ জনের বেশি লোক সমাগম না করতে কণের বাবা দিপংকর মন্ডলেক নির্দেশ দেন।এতে আস্বস্হ না হতে পেরে বিয়ে ঠেকাতে এক পর্যায়ে বীনা সরদার  তার সহযোগিদের সাথে নিয়ে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে কৈয়া  এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকেন বিয়ে করতে আসার পথে স্বামী প্রতাপ বালাকে আটকাতে।
বিষয়টি জানা জানি হয়ে গেলে বরসহ যাত্রীরা গোপনে ভিন্ন রাস্তা দিয়ে বড়ডাঙ্গায় বিয়ে বাড়িতে ঢোকার পথিমধ্যে বীনা তার স্বামী প্রতাক কে গাড়ি থেকে টেনে হেচড়ে বের করতেই সে দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পায়।
বর যাত্রীরাও ছত্র ভঙ্গ হয়ে এদিক সেদিন গা ঢাকা দেয়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনা দেখা দিলে খবর পেয়ে থানা পুলিশ, স্হানীয় জনপ্রতিনিধি বিয়ে বাড়ির ঘটনাস্হলে হাজির হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন।
 এ বিষয়ে জানতে চাইলে বীনা  সরদার বলেন, আমরা পরস্পরকে ভালবেসে ধর্মীয় রীতনীতি মেনে এবং নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে বিয়ের দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে বিয়ে করেছি।অথচ গত প্রায় তিন মাস যাবৎ প্রতাপ  আমার বাসায় যাওয়া বন্দ করে দিয়ে এবং আমাকে
 এড়িয়ে চলে পূণ:রায় গোপনে আবার একটি মেয়েকে বিয়ে করছে। তাই স্ত্রী হিসেবে আমি এ বিয়ে মানতে পারিনা বলে ঠেকানোর চেষ্টা করেছি।
তিনি আরো জানান,বিয়ে বাড়ির সামনে বরযাত্রী হিসেবে আসা কয়েক জন তাকে ও তার সহযোগিদের লাঞ্চিত করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে, প্রতাপ বালা বলেন, বীনা সরদারের সাথে আমার কোন বৈবাহিক সম্পর্ক নেই। সে বিয়ের  ভূয়া কাগজ পত্র সৃষ্টি করে নিজেকে আমার স্ত্রী হিসেবে দাবী করছে।
এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃওবাইদুর রহমান জানান,বীণা সরকারে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করতে একজন অফিসারকে দায়ীত্ব দেয়া হয়েছিলো।ইতোমধ্যে বীনা সরদার  প্রতাপ বালার বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক আইনে একটি মামলা করেছেন যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। যে কারণে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে উনাকে(বীনাকে) আদালতে যেতে বলা হয়েছে হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu