শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিককে নারায়ণগঞ্জে কুপিয়ে জখম দিঘলিয়ায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে একজন কে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদান খুলনার দিঘলিয়ায় পাট গুদামের দেয়াল ধ্বসে থানায় ২ ডায়েরি  নোয়াখালীতে ইসলামী বক্তা আবু ত্বোহার সন্ধানে ছাত্র ও যুব সমাজের মানববন্ধন ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহে আলমকে বরিশাল রেঞ্জে বদলি গাইবান্ধায় নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধিতে নৌকা কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে বগুড়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪১টি চোরাই মোবাইলসহ আটক-৪ গাজীপুরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হতদরিদ্র ৬৪ পরিবারে স্বাস্থ্যসেবা কার্ড বিতরণ সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ছায়াবৃক্ষ সিনেমার শুটিং চলছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উজানচরে ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রীকে বাঁচাতে স্বামীর আকুতি

নারী পুরুষের সমতা রুখতে পারে সহিংসতা, যে কোন প্রয়োজনে এফপিএবির হটলাইনে সেবা নিন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১
  • ৮২ জন সংবাদটি পড়েছেন

অরুণ শীলঃ নারীকে ঠিকভাবে গড়ে উঠতে দেওয়া হচ্ছে কিনা, নাকি সে পুরুষতান্ত্রিক আচরণই করছে সেই জায়গাগুলো নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। মুখে বললেও বাস্তবে ‘সমতার মাঠ তৈরি হওয়া সহজলব্ধ্য নয় । কিন্ত হতাশ না হয়ে সামনের পথে অগ্রসর হতে হবে আমাদের মানবিক চেতনাবোধ থেকে। যে কারনে বলা হচ্ছে “নারী পুরুষের সমতা রুখতে পারে সহিংসতা”।

সহিংসতা নিয়ে আন্দোলন হয়েছে এখনও হচ্ছে, একসময় যৌন শব্দটাই উচ্চারণ করা যেতো না। কিন্ত এখন আমরা সেই বিষয়ে উচ্চ আদালতকে আদেশ দিতে শুনেছি। ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে ‘ধর্ষিতা’ বলা যাবে না এটি আমাদের অনেক আগের দাবি ছিল। সেটি এখন নানা মহলকে বলতে শুনছি, এবং এসব শব্দ ব্যবহারে সতর্কতা বাড়ছে।২০০৬ সালে বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীর অগ্রগতি ছিল ৬২ শতাংশ, যা ২০১৮ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে। ২০১১ সালে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার হার ছিল ৪৬ শতাংশ, যা ২০২১ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে। নারীর প্রতি সমতার চ্যালেঞ্জ এখনও সবখানেই। পরিবার, সমাজ, সম্পদ, দক্ষতা, উচ্চশিক্ষা, জীবিকা, রাজনৈতিক ক্ষমতা, অবস্থানগত ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশের নারীরা এখনও পুরুষের তুলনায় সংখ্যায় পিছিয়ে। নারী-পুরুষের সমান সুযোগ, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখনও সমাজের বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে নারীর কম অংশগ্রহণ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বিভিন্ন অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। তবে জোর করে কেবল সংখ্যা বৃদ্ধি করার মধ্য দিয়ে সমতা আসবে না। সামাজিকভাবে নারীর প্রতি যে মানসিকতা সেটিতে পরিবর্তন আনা আসল কাজ। বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি(এফপিএবি) দেশের ২১টি জেলায় নারীর প্রতি সহিংসতারোধসহ সম-অধিকার নিশ্চিত করনে কাজ করছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসাব অনুযায়ী,২০১৯ সালের মার্চ থেকে জুনে বাল্যবিবাহ হয়েছিল ৩৮টি। পরের বছর ২০২০ সালে করোনাকালে সেই একই সময়ে বাল্যবিবাহ বেড়েছে ছয়গুণের বেশি। গবেষণা বলছে, ৮৫ শতাংশ বাল্যবিবাহ ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অনিরাপত্তার জায়গা থেকে দেওয়া হয়েছে। ৭১ শতাংশ দেওয়া হয়েছে স্কুলের অনিশ্চয়তার কারণে। ৬১ শতাংশ দেওয়া হয়েছে ‘ভালো পাত্র’ সহজে না পাওয়া যাওয়ার কারণে। করোনাকালে বাল্যবিবাহের হার বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল অর্থনৈতিক টানাপোড়নের সময়ে মেয়ে শিশুকে বাড়তি বোঝা মনে করা। সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে নারীর প্রতি সহিংসতার ধরণ নিয়ে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৪৬ নারী ধর্ষণের শিকার হন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিশু-কিশোরীই বেশি। যাদের বয়স ৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। ধর্ষণের ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেবল ধর্ষণের মধ্য দিয়ে সহিংস আচরণের শেষ হয় না। শারীরিকভাবে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার করে অঙ্গহানির মতো ঘটনাও নজরে আসে। নারীদের দৃশ্যমানতার ইতিবাচক প্রভাব আছে ঠিকই কিন্ত সংখ্যা দিয়ে সমতার বিচার করা যাবে না। ‘এই ৫০ বছরে দু-চার জায়গায় ভাল কাজ হয়নি,তা বলা যাবে না। সম্ভাবনার জায়গা আছে। আমি ইতিবাচকভাবে দেখতে চাই। কিন্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি শূন্য থেকে ৫ শতাংশ এগিয়েছি’। সংখ্যা বেধে দিয়ে আসলে সমতা আনা সম্ভব না বিষয়ে বলতে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীর উপস্থিতি রয়েছে।

বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাস লক্ষ্য করলে, নারী ও বালিকাদের প্রাত্যহিক জীবনের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। সেই ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে স্কুলে ভর্তি হওয়া, মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য, সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে আরও অনেক ক্ষেত্রেই। কিন্ত তারপরও অসমতা রয়ে গেছে। সুনির্দিষ্ট কিছু সম্পদ ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে আছে। মাধ্যমিক স্কুলে ছেলে ও মেয়েদের ভর্তির হার একই, এটা ঠিক, কিন্ত ফলাফলের ক্ষেত্রে মেয়েরা পিছিয়ে আছে। ড্রপআউট হলে ছেলেরা শ্রমিকের কাজ করে, আর মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। মেয়েদের উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটা তাদের পড়াশোনা করতে কিছু মাত্রায় সাহায্য করছে। অন্যদিকে স্কুলের বাইরে চলে গেলে মেয়েদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

অসমতার একটি ক্ষেত্র হচ্ছে সম্পদ প্রাপ্তি। নারীদের সব সময় অবমূল্যায়ন করা হয়, এর কোনো ব্যত্যয় হয় না। এখানে নারীকে পুরুষের সমান হিসেবে দেখা হয় না। নারীর প্রতি যে হারে সহিংসতা হচ্ছে, তা থেকে এটা স্পষ্ট। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সমীক্ষা অনুসারে, ৮৭ শতাংশ নারী তাঁদের স্বামীর দ্বারা নির্যাতিত হন, এর মধ্যে ৬৬ শতাংশই হচ্ছে শারীরিক সহিংসতা। গত বছরে দেশের এক-তৃতীয়াংশ নারীই শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অর্থাৎ বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ নারী সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। তাঁরা যেমন বাড়িতে নির্যাতিত হচ্ছেন, তেমনি কর্মক্ষেত্র এবং রাস্তায়ও নির্যাতিত হচ্ছেন। এই ৮৭ শতাংশ নারী আবার মানসিকভাবেও নির্যাতিত হয়েছেন। আর এই সহিংসতা স্রেফ ক্ষণিকের ক্রোধের বিস্ফোরণ নয়, এটা ধারাবাহিক ব্যাপার। আরেকটি বড় ব্যাপার হচ্ছে বাল্যবিবাহ।

আইন অনুসারে, ১৮ বছর বয়সের আগে মানুষ নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তারপরও ১৮ বছর বয়সের আগে অর্ধেকেরও বেশি মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, যখন তারা নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্তই নিতে পারে না। অর্থাৎ সমাজ ছেলে ও মেয়েদের সমান দৃষ্টিতে দেখে না। আবার অর্থনীতিতে নারীর অবদান স্বীকার করা হয় না। দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ নারীদের কম। আসলে নারীদের এসব সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে এত বেশি প্রতিবন্ধকতা আছে যে তাঁদের পক্ষে তা গ্রহণ করাই কঠিন। গৃহস্থালির কাজের বেশির ভাগই করে নারী, কিন্ত সেটা শ্রম আইনে স্বীকৃত নয়। পারিশ্রমিকবিহীন শ্রমের ওপর সিপিডি একটি সমীক্ষা করেছিল, তাতে দেখা যায়, কাজ ও উৎপাদনে নারীর বিপুল শ্রমের পারিশ্রমিক নেই। নারী ছাড়া অন্য কেউ টাকা বানাচ্ছে, যদিও তারাই কাজটা করছে।

পারিশ্রমিকবিহীন শ্রমিকের ৯০ শতাংশই নারী। তারা হয়তো হস্তশিল্পসহ অন্যান্য পণ্য তৈরি করছে, যেগুলো বিক্রিও হচ্ছে, কিন্তু সেই স্বীকৃতি নারীরা পাচ্ছে না। পুরুষের ক্ষেত্রে তা হতে পারে না। লৈঙ্গিক অসমতা আমরা যত বেশি দূর করতে পারব, তত বেশি আমরা নারীদের অসহায়ত্ব দূর করতে পারব। নিজেদের জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে, সমাজে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ও তা সামলানোর ক্ষেত্রে নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ থাকা দরকার। নারীদের পুরুষের সমান মজুরি পাওয়া ও শ্রমের সমান সুযোগ পাওয়া উচিত। ফলে দুর্যোগ ঘটলে নারীরা যেকোনো কিছুর ওপর নির্ভর করবে, তার জো থাকে না। কারণ, তাদের সম্পদ লাভের সুযোগ নেই। অন্যদিকে নারীদের রেজিলিয়েন্স (ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা) তৈরির চেষ্টা আমাদের করতে হবে। এর জন্য নারীর ক্ষমতায়ন দরকার। কিন্ত তার যদি সম্পদই না থাকে, তাহলে সে এই ক্ষমতা অর্জন করবে কীভাবে? আর দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহকে বিকল্প হিসেবে দেখা হয়।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দুর্যোগ-পরবর্তী দুর্যোগ বাড়িয়ে দেয়। অনেক বিষয়ই এখানে উল্লেখ করা দরকার। আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা নেই, ল্যাট্রিনে আলোরও ব্যবস্থা নেই। পানের পানির স্বল্পতার কারণে নারীদের বহু দূরে গিয়ে তা সংগ্রহ করতে হয়, ফলে তাদের বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। বাল্যবিবাহ ও সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যায়। কথা হচ্ছে, দুর্যোগ প্রস্তুতির মাধ্যমে এসবের আশঙ্কা কমিয়ে আনতে হবে। এগুলো ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য নারী সংগঠনগুলো সহযোগিতা ও মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপে। দেশের উপকূলীয় এলাকায় দেখা যায়, পুরুষেরা মৌসুম ভিত্তিতে অভিবাসন করে,ফলে ঘর থাকে পুরুষশূন্য। এতে নারীদের গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি পরিবারের উপার্জন বাড়াতেও কাজ করতে হয়, আবার লবণাক্ততার জন্য তাদের খাওয়ার পানি আনতেও অনেক দূরে যেতে হয়। ফলে তাদের কর্মসময়ের পরিধি দেখে আমাদের বিভ্রান্ত হতে হয়।

মূল বার্তা হলো, নারীদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তাদের অধিকার আছে, সেটার স্বীকৃতি দিতে হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের সম–অংশীদার হিসেবে গণ্য করতে হবে। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। যে আইনের বিধিবিধান মেনে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সংবিধানের কাজ নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ। আর কনভেনশন অন দ্য এলিমিনেশন অব অল ফর্মস অব ডিস ক্রিমিনেশন অ্যাগেইনস্ট উইমেন-সিডও হচ্ছে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সনদ।

১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক সনদ বা কনভেনশন- সিডও গৃহীত হয়।জাতিসংঘ কর্তৃক ১৯৭৫ সালকে ‘বিশ্ব নারী বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করার পর নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার জন্য আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রেক্ষাপটে সিডও পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই সনদ বা কনভেনশন গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে নারীর জন্য সমান অধিকারের লক্ষ্য অর্জনের পথে সমগ্র বিশ্বের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক সূচিত হয়। সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি সকল বিষয়ে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সেই পথে জাতীয় পর্যায়ে আইন প্রণয়ন করে পর্যায়ক্রমে বৈষম্যমূলক আচরণের অবসানের জন্য এই সনদে আহ্বান জানানো হয়েছে। নারী-পুরুষের সমতা স্থাপনই সিডও দলিলের মূল মর্মবাণী। ১৯৮০ সালের পয়লা মার্চ থেকে এই সনদে স্বাক্ষর শুরু হয়।

১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ২০টি রাষ্ট্রের অনুমোদনের পর এই সনদ কার্যকর বলে ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই জাতিসংঘের উদ্যোগে ৩ সেপ্টেম্বর সিডও দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৪ সালের ৬ নভেম্বর সিডও সনদে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করে। সিডও সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে। ৩০টি ধারার মধ্যে ১৪টি প্রশাসনিক, বাকি ১৬টি নারী অধিকার বিষয়ক। এই ১৬টি ধারা নারীর সমতা স্থাপনের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী কী করণীয়, তা সংশ্নিষ্ট রাষ্ট্রসমূহকে বাতলে দিয়েছে। বাংলাদেশ এই দলিলের ৩টি ধারা ২, ১৩(ক) এবং ১৬-১(গ) ও (চ) বাদ রেখে অনুমোদন করে স্বাক্ষর করে। ১৯৯৭ থেকে বাংলাদেশ সরকার ২ ও ১৬-১(গ) ধারা ছাড়া অন্য দুটি ধারার ওপর থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে।

এ পর্যন্ত ১৮৬টি দেশ এই কনভেনশন অনুমোদন দিয়ে স্বাক্ষর করেছে। অনেক মুসলিম দেশ যেমন- ইয়েমেন, মরক্কো, তিউনিশিয়া সিডও ধারা-২ ও ধারা ১৬-১(গ)সহ সিডও সনদ অনুমোদন করেছে। নারীর মৌলিক অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়া সিডও সনদের প্রাণকথা হিসেবে গণ্য ধারা-২ এবং অন্যতম একটি মূলধারা ১৬-১(গ) থেকে বাংলাদেশ সংরক্ষণ প্রত্যাহার করেনি। এই ধারা দুটি সংরক্ষণ বাংলাদেশের জন্য যুক্তিযুক্ত নয়। ধারা ২-এ বলা হয়েছে, যে সকল আইন, রীতি, প্রথা নারীর প্রতি বৈষম্য তৈরি করে তা বাতিলের জন্য সিডও সনদে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রসমূহ অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ধারা ১৬-১(গ)তে বলা হয়েছে, বিয়ে, সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং সম্পত্তি লাভের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং রাষ্ট্রসমূহ নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করবে। এ ধারাগুলো বাদ দিয়ে বাংলাদেশে নারীর অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি, নারীকে অধিকার বঞ্চিত করা বা অধিকার হরণ করা অর্থাৎ গাছের আগায় বসিয়ে গোড়া কেটে দেওয়ার শামিল। এই পর্যন্ত যে ক’টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ গৃহীত হয়েছে তার মধ্যে সিডও সনদ অন্যতম। শিশু অধিকার সনদের পর এই সনদটি সর্বাধিক দেশ কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত সনদ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রায় সব আইনই প্রণীত হয়েছে, দেশের সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষা/চর্চা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংবিধানের আলোকে ইউরোপীয় সিভিল আইনের আদলে। শুধু নারী অধিকার খর্বকারী ব্যক্তিগত বা পারিবারিক আইন হচ্ছে ধর্মীয় আইননির্ভর। একই সংবিধান মেনে পরিচালিত একটি স্বাধীন দেশে এমন দ্বৈত শাসন তো সংবিধান আমলে না নেওয়ার শামিল। বাংলাদেশের সংবিধানের ধারা- ১০, ১৯, ২৭, ২৮ ও ২৯নং ধারাসমূহে জীবনের সবক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধানের আলোকে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন করে বা আইনের সাহায্যে সাংবিধানিক অধিকার বলে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে এক্ষেত্রে বিরাজমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ধারা সংরক্ষণ প্রত্যাহার অপরিহার্য।

প্রিয় পাঠক নারী অধিকার নিশ্চিত, নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতসহ নারীর প্রতি সহিংসতা হলে এফপিএবির হটলাইনে ফোন দিয়ে আমাদের সহযোগিতা নিতে পারেন।

লেখক: অরুণ শীল, জেলা কর্মকর্তা, এফপিএবি।রাঙ্গামাটি,৪ জুন,২০২১ সকাল ১১টা

 

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu