বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
জেলা প্রশাসকের সাথে সাতক্ষীরা পানি বিশুদ্ধকরণ সরবরাহকারী সমিতির মতবিনিময় সুন্দরবনের মাছ কাকঁড়ার উপর নির্ভরশীল উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার জেলে বাওয়ালী রূপসায় শেখ কামালের ৭২ তম জন্ম বার্ষিকী পালিত সুন্দরগঞ্জে দিন-দুপুরে বাড়ি চুরির অপরাধে যুবক জেলহাজতে পাইকগাছায় বেপরোয়া মোটরবাইক কেড়ে নিল বৃদ্ধ আবুল কাশেমের প্রান পাইকগাছার চাঁদখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসির আরাফাতের বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মুত্যু ! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রূপসায় ভ্রাম্যমান টিকা নিবন্ধন কার্যক্রমের উ‌দ্বোধন রূপসায় ব্যাচ-৯৫ এর অক্সিজেন ব্যাংক ও ব্লাড ব্যাংকের শুভ উদ্বোধন  শ্যামনগরে ইউনিয়ন পর্যায়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান বিষয়ে মতবিনিময় সভা ।

ডুমুরিয়ায় মৎস্য ও কৃষি সম্পদ  উন্নয়নে প্রায় ২কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি খাল পুন:খনন কর্মসূচীর ৩ টিতে অনিয়মের অভিযোগ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১
  • ২২১ জন সংবাদটি পড়েছেন
লতিফ মোড়ল,ডুমুরিয়াঃ মাঘ-ফাল্গুন  মাসের পরে আর খালে পানি থাকে না। মাছ ধরা তো দুরে থাক বিলে গরু- ছাগল চরাতে আনলে চৈত্রের প্রখর রোদে গরু ছাগলকে পানি খাওয়ানোর উপায় থাকেনা। গরু- ছাগলকে পানি খাওয়াতে তাই পাশের গ্রাম থেকে কলসিতে বা বালতিতে করে পানি আনতে হত। কৃষি চাষাবাদে পানির সংকটে ভুগতে হয়। কিন্তু এবার খালটি খনন করায় সেই সমস্যা আর নেই। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট হয়ে থাকার পর এবার মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে খালটি খনন করায় সেই সমস্যা আর নেই। এমনটাই বলছিলেন খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ডুমুিরয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নলঘোনা খালের পাড়ের বাসিন্দা আমিনুর রহমান বিশ্বাস।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১০টি খাল খনন করা হচ্ছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৬ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ খাল খনন কাজ শেষ হয়েছে। খালগুলো হচ্ছে; সাহস ইউনিয়নের দোয়াইনের খাল পুন:খনন প্রকল্প যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। গুটুদিয়া ইউনিয়নের ফলইমারী খাল পুন:খনন প্রকল্প যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সাহস ইউনিয়নের দোয়াইনের খাল পুন:খনন প্রকল্প যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ও হাতুড়িয়া দুয়ানি খাল পুন:খনন প্রকল্প ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের নলঘোনা বদ্ধ জলাশয় পুন:খনন প্রকল্প দুটি অংশে যার একটি অংশে ১২ লাখ ৪২ হাজার ও যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।  শোভনা ইউনিয়নের ঝিলা মরা নদী পুন:খনন প্রকল্প যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। শরাফপুর ইউনিয়নের ভদ্রা মরা নদী পুন:খনন প্রকল্প তিনটি অংশে মোট বরাদ্দ ৪৫ লাখ টাকা।  শোভনা ইউনিয়নের শাখাবাঈ খাল পুন:খনন প্রকল্প যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।
এ সকল খাল খননের অর্থ সংশ্লিষ্ট পিআইসির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। ইতোমধ্যে ৭টি খালের বরাদ্দকৃত অর্থের তিন দফায় অর্থ উত্তোলন করা হযেছে। অপর তিনটি খালের কাজ ভাল না হওযায় তাদেরকে তৃতীয় কিস্তির টাকা দেয়া হয়নি। এদিকে অনেকেই চুড়ান্ত বিল পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছি বলে জানা গেছে। তবে উপজেলা মৎস্য অফিস কাজের সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে তাদের চুড়ান্ত বিল প্রদান করবে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে যেয়ে দেখা ও স্হানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে,ডুমুরিয়া সদরের নলঘোনা (বদ্ধ) খালটি দুটি অংশে বিভক্ত করে খনন করা হয়েছে। যার একটি অংশের দৈর্ঘ্য ৫৫০ মিটার এবং প্রস্হ ৬০ফুট, অপর একটি অংশের দৈর্ঘ্য ৫৫০ মিটার এবং প্রস্হ ৮০ ফুট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্হানীয় বাসিন্দা আঃ খালেক গাজী বলেন,খালটি খননের ফলে শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদের জন্যে পানি সংকট,আবার বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার হাত থেকে তারা রক্ষা পাবেন। পাশাপাশি মাছ ধরতে পারবো। তিনি আরো জানান গত মৌসুমে খাল খননের চেয়ে এবার যথেষ্ট ভাল করে খালটি খনন করা হয়েছে।
তবে খননকৃত ১০টি খালের মধ্যে ঝিলা মরা নদী পুনঃখনন, শোভনা ইউনিয়নের শাখাবাঈ খাল পুনঃখনন, হাতুড়ি দুয়ানি খাল, ভদ্রা নদীর সাহস ইউনিয়নের অংশের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।সিডিউল অনুযায়ী খাল খনন না করে কেউ কেউ দ্রুত খালে পানি ভরাট করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও মৎস্য অফিস বলছে তাদের কাজ সন্তোষজনক ভাবে না করলে চুড়ান্ত ও বকেয়া বিল প্রদান করা হবে না।
 স্হানীয় আওয়ামী লীগ নেতা  আছফর হোসেন জোয়াদ্দার বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডুমুরিয়া- ফুলতলার যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করছেন। কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ও এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বদ্ধ ও ভরাট হওয়া খাল , জলাশয় খনের উদ্যোগ নেন।  পুন:খননকৃত সকল খালের আশপাশের বিলে কৃষি পন্য উৎপাদন ও মাছ চাষে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।পাশা পাশি এলকার বেশ কয়েকটি বিলের পানি খাল দিয়ে সরিয়ে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে।
ডুমুরিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: আবু বক্কার সিদ্দীক জানান, ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় এ খাল খনন কর্মসূচী চলছে ।
খাল খনন করার ফলে ওই অঞ্চলের জনসাধারণ মৎস্য চাষ ও ফসল উৎপাদনে পানি সঙ্কটে ভুগবে না।খাল খননের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জলাশয়ের পার্শ্ববর্তী কৃষক, গরীব মৎস্যজীবী ও সাধারণ জনগণ  সেচ সুবিধাসহ মৎস্য চাষের মাধ্যমে আমিষের ঘাটটি  মেটাতে পারবেন।
সেই সাথে বিলুপ্ত অথবা বিলুপ্ত প্রায় মৎস্য প্রজাতি ফিরে পাওয়া যাবে। খালের পার্শ্ববর্তী গরীব জনগণ আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu