বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

উপকূলীয় বেড়িবাধ নির্মানে স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করে কাজ করলে দুর্যোগ প্রবন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব(পর্ব-৩)

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ৮৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

 রাকিবুল হাসান শ্যামনগরঃ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা অন্যতম দুর্যোগ প্রবণ এলাকার মধ্যে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নেছার মালী বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাধ অত্যন্ত নাজুক অবস্থা। গত প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, ইয়াসে এর আঘাত বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করাই এলাকার জনসাধারণ ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।

স্থানীয় জনসাধারণের মাধ্যমে জানা যায়, মজবুদ বেড়িবাঁধ অভাবে প্রায় নানাবিধ ক্ষতির শিকার হতে হয় এ অঞ্চলের জনসাধারণ। স্থানীয় জনসাধারণের নিকট হতে আরো জানা যায়, যে গত আম্ফান ভেঙে গেল ওয়াপদার রাস্তা, এই কাজে দায়িত্ব থাকা পাউবো যখনই ভেঙে প্লাবিত হয় ওই মুহূর্তে পাউবোকে দেখা যায় না। এই না দেখা যাওয়ার ফলে প্রাথমিক অবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হয় জনসাধারণকে।

যদি এই বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি সাথে সমন্ময়ের মাধ্যমে কাজ করা যায় তাহলে এতটাই ক্ষতির শিকার হতে হয় না। বেড়িবাঁধ যেখানে ভাঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি লোকজন নিয়ে ভাঙন রোধের কাজ করে এমন দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় জনসাধারণের অভিমত মধ্যে অন্যতম, বেড়িবাঁধ ও নির্মাণ ও সংরক্ষণ কাজে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের যুক্ত কাজ করলে মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে কাজ করে গেলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের এই দুর্ভোগ ক্ষতিসাধনের হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে আশা করে। গত আমফানের নেছার মালীর বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কৃষ্ণপদ মন্ডল ও ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডলের নেতৃত্বে কয়েক শত লোক গভীর রাতে এইভাবে কাজ করে যাচ্ছে এমন দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু এর দায়িত্বভার পানি উন্নয়ন বোর্ড থাকার শর্ত তাদেরকে দেখা যায় ভেঙে যাওয়ার কয়েকদিন পরে তাদের কার্যক্রমের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক বাবুরাম বলেন, আর কত বানের জলে ভাসবো আর কত ক্ষয়ক্ষতি শিকার আমরা হব স্থানীয় সরকারকে সাথে রেখে পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্মিলিতভাবে কাজ করে গেলে এত ক্ষয়ক্ষতি হতো না। আমাদের জানমাল সম্পদ সবগুলোর ক্ষতি পরিমাণ বেশি দেখা গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব থাকা সত্বেও তাদের উপস্থিতি দেখা যায় না। ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যাওয়ার কতৃপক্ষ কাজ করে। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছায় কাজ করা দৃশ্য দেখা। 

উপকূলীয় এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি স্থানীয় সরকারকে সাথে নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে বেড়িবাঁধ নির্মান কাজ যদি একযোগে করা যায় তাহলে যতই দুর্যোগ আসুক না কেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনীয় এলাকা বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন, আসলে এই ইউনিয়নে ২৮ কিঃ মি বেড়িবাঁধ উপকুলীয় নদী অববাহিকায় অবস্থিত। আমি গত ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে প্রায় প্রতি বছর কোন না দুর্যোগের মোকাবেলার অভিজ্ঞতা দিয়ে বলা যায়, বেড়িবাঁধ গুলো ৬ দশকে নির্মানের পর যথাযথ ভাবে কাজ না করায় বর্তমানে দুর্যোগ সহনশীল না হওয়ায় ছোট বড় দুর্যোগে প্রায় বেড়িবাধ ভাঙ্গে। প্রকৃত বেড়িবাঁধ নির্মান সহ এ সংক্রান্ত সব কাজের দায়িত্ব থাকে পাউবোর হাতে। যখন বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায় তখন আমাদেরকে আগেই যেতে হয় এবং কাজ করতে হয় নিজেদের বাঁচার তাগিদে, আমাদের কোন বাজেট বা তহবিল থাকে না তারপরও কাজ করতে হয় মানবিক কিছু কারনে। জনগন মনে করে এসব দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির। এই নিয়ে নানান ক্ষোপের বিষয় উঠে আসে। যেটি অত্যান্ত দুঃখের বিযষ। এটা নিয়ে জনগন ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির সাথে ব্যাপক মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।

এখন সব মিলে সরকার যদি স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিকে যুক্ত করে পাউবোর সাথে বেড়িবাঁধ নির্মানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তাহলে যেমন একদিকে কাজটি সঠিক ভাবে করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu