মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
পাইকগাছায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন এক রাতের বৃষ্টিতে ফের ডুবলো সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু পলাশবাড়ীর কিশোরগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রিন্টুসহ ৬ জুয়াড়ী  আটক সাদুল্লাপুরে জুয়া খেলার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা আজ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ১১ইউপিতে নির্বাচন,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র৩২টি আজ নোয়াখালীর ১৩ ইউনিয়নে নির্বাচন, প্রচারণায় মুখর ছিল চরাঞ্চলের জনপদ সাতক্ষীরায় এসিড সারভাইবারদের বাড়িতে হামলা  মারধর ভাংচুরের বিচার দাবিতে মানববন্ধন কলারোয়ায় নির্বাচন উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক ব্রিফিং সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের জনজীবন ভেলাই ভাসছে !

দুশ্চিন্তায় গাইবান্ধার চাষিরা, বৃষ্টি নেই খরায় পুড়ছে আমন ক্ষেত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১
  • ৭২ জন সংবাদটি পড়েছেন

 সফিকুল ইসলাম রাজা গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ আষাঢ় বৃষ্টির মৌসুম হলেও শ্রাবণেও দেখা নেই বৃষ্টির, চাষের জমিতে ফাটল ধরেছে, দুশ্চিতার প্রহর গুনছেন গাইবান্ধার চাষিরা।। উল্টো বাড়ছে তাপমাত্রা।

বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা না পেয়ে এ অঞ্চলের আমন চাষিরা জমিতে সেচ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এখনও বীজতলায় পড়ে রয়েছে আমন ধানের চারা। পরিমাণ মতো বৃস্টির পানি না পাওয়ার জন্য আমন চাষে চরম সমস্যায় পড়েছেন তারা।

অন্যদিকে জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ না হওয়ার উদ্বিগ্ন কৃষকসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও। শুক্রবার (৬ আগস্ট) গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলের মাঠ ঘুরে সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চাষযোগ্য জমিতে সেচ দিতে চোখে পড়েছে। কৃষকরা বৃষ্টির পানি না পেয়ে বাধ্য হয়ে সেচ পাম্পের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানির ওপরেই ভরসা করে আমনের চারা রোপন করছে। যে সমস্ত এলাকায় সেচের সুযোগ নেই কিংবা নদী বা পুকুর নেই সেই সমস্ত এলাকার চাষিরা চরম সমস্যায় পড়েছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ধান ক্ষেতে পানি না থাকায় ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা ক্ষেতে স্যালোমেশিন ও টিউবওয়েল দিয়ে পানি দিচ্ছেন। বৃষ্টির অভাবে চারা রোপণ করতে দেরি হওয়ায় সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক রিয়াজউদ্দিন বলেন, ফসলের ক্ষেত ফেটে চৌচির হওয়ায় জমির ফসল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। শ্যালো মেশিন কিংবা বৈদ্যুতিক মোটর চালিয়ে রোপা আমন আবাদ উপযোগী নয়। কারণ তার বেশ কিছু জমি মাঠের মাঝখানে। বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন চাষ ভালো হয়। কিন্তু পানির অভাবে অনেকে জমিতে আমন ধান লাগাতে পারছেন না।

কৃষক মোন্নাফ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, বৃষ্টির সময় খরা, আবার খরার সময় বৃষ্টি। আগে আষাঢ়-শ্রাবণে দিনের পর দিন বৃষ্টি হতো। এখন বর্ষাকাল চলে যাচ্ছে কিন্তু আশানুরুপ বৃষ্টির দেখা পাচ্ছি না। আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষকের পক্ষে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে আমন ধান চাষাবাদ করা কঠিন। এমনি অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। আমন ধান সম্পূর্ণ বৃষ্টি নির্ভর হওয়ায় সম্পূরক সেচ দিয়ে এ ধানের ফলন ভালো হবে না। ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ভরা বর্ষাতেও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদী, খাল-বিলের পানি শুকিয়ে গেছে। বর্ষার পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে যারা আমনের জমি আবাদ করেছেন তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। তারা কোথাও পানি পাচ্ছেন না। এতে আগাম লাগানো ধানের ক্ষেতগুলো পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃষকরা ফসল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন এবং সেইসঙ্গে কৃষি বিভাগের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে কৃষি বিভাগের পক্ষে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষকরা জানায় কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদরা আমাদের সেচযন্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ২৮ হাজার হেক্টর ধরা হলেও এ পর্যন্তঅর্জিত হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার হেক্টর। এখনও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। টানা দাবদাহে পুড়ছে লাগানো চারা। এ অবস্থায় আমনের চারা রোপণে সম্পূরক সেচ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টি নেই এ অবস্থা যদি চলতে থাকে তবে আমনের উপর অবশ্যই প্রভাব পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu