শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের জেলে মফিজের হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৩ জন সংবাদটি পড়েছেন
নোয়াখালী প্রতিনিধি, শাহাদাৎ বাবুঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিণ চরবাগ্যার মৈত্রী এগ্রো ফিসারীজে স্থানীয় জেলে মফিজের রহস্য জনক মৃত্যুর ঘটনাকে একটি কুচক্রী মহল ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে মৃত মফিজের পরিবারের সদস্যরা।

গত ১৮ জুন উক্ত ফিসারীজে স্থানীয় আবদুল হাসিমের পুত্র মইজল ওরফে মফিজের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন রাতে মফিজের পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী মৈত্রী এগ্রো ফিসারীজের পুকুরের পানি থেকে মফিজের লাশ উদ্ধার করে পরে চরজব্বার থানা পুলিশকে খবর দেন । এ ঘটনায় মৃত মফিজের পিতা আবদুল হাশেম বাদী হয়ে গত ২৮/৬/২০২১ নোয়াখালীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ০২ নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করে। যাহার পিটিশান মামলা নং- (৩৪৫)/২০২১।

এদিকে মামলার আসামীরা একটি কুচক্রী মহলের সাথে যোগসাজশ করে মফিজ মৃগীরোগে পানিতে পড়ে মারা গেছে বলে এ মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে শংকা প্রকাশ করেছে মামলার বাদীপক্ষ ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, মৃত মইজল হক ওরফে মফিজ মামলার বাদী আবদুল হাসিমের ৫ম পুত্র। মফিজের স্ত্রী ও ৪টি সন্তান রয়েছে । সে মাছ ধরে বদলা দিয়া জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। তার বাড়ীর নিকটবর্তী “”মৈত্রী ফিসারিতে” মফিজ দীর্ঘদিন ধরে ডেলি লেবার হিসেবে মাছ ধরার কাজ করে আসছে । মামলার ১ নং আসামী সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিণ চরবাগ্যা গ্রামের আবদুল কাদেরের পুত্র আবদুল করিম (৪০) ও ৭ নং আসামী একই গ্রামের আবদুল সোবহানের পুত্র নুর আলমও উক্ত মৈত্রী ফিসারিতে কাজ করে। কাজ করা নিয়ে উভয়ের মধ্যে পূর্ব থেকে মতবিরোধ ছিল। উক্ত আসামীগণ কখনো চাইতো না মফিজ ঐ মৈত্রী ফিসারিতে কাজ করুক।

গত ১৭/০৬/২১ ইং তারিখ মফিজ প্রতিদিনের ন্যায় “মৈত্রী ফিসারিতে” কাজ করার জন্য যায়। কাজ শেষে বিকাল বেলা বাড়ী আসার সময় উক্ত ফিসারির উত্তর পাশ দিয়ে কিছু শৈল মাছ টপকাইয়া খালে চলে যাওয়ার সময মফিজ ৩টি শৈল মাছ ধরে ফেলে। তখন ১নং আসামী আবদুল করিম এসে মফিজের থেকে উক্ত ৩টি শৈল মাছ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়া ১ নং আসামী আবদুল করিম ও মফিজের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি এবং ধাক্কাধাক্কি হয়। তখন ১ নং আসামী আবদুল করিম মফিজকে নানান হুমকি ধমকি দেয়। উক্ত ঘটনা মফিজ বাড়ীতে এসে তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। তখন মফিজের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে ফিসারির মালিক নিকট বিচার দিবে মর্মে মইজল হক প্রকাশ মফিজকে আশ্বস্থ করে।

পরদিন ১৮/০৬/২০২১ ইং সকাল আনুমানিক ১১ ঘটিকায় ১ নং আসামী আবদুল করিম কৌশলে মফিজকে কাজ করার জন্য মৈত্রী ফিসারিতে ডেকে নিয়ে যায়। ঐ দিন মফিজ কাজ শেষ করে বিকালে বাড়ীতে ফিরে না আসায় তার পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা চারদিকে মফিজকে খোঁজাখুজি করতে থাকে। এক পর্যায়ে মফিজের ভাই বাশার উক্ত ফিসারির অফিসে খোঁজ করতে চাইলে ফিসারীজের কর্মচারী ফারুকসহ আসামীগণ তাতে বাধা দেয় এবং অফিসে তালা মেরে দেয়। পরবর্তীতে কয়েক জনসহ উক্ত ফিসারিতে বিদ্যুতের আলোতে তন্নতন্ন করে খুুঁজতে থাকে। কোথাও মফিজকে পাওযা যাচ্ছিলোনা ।

পরে ফিসারিজের অফিসের দক্ষিণ পাশের বিদ্যুতের লাইট আসামীরা হঠাৎ নিভিয়ে দেয়। তখন মৃত মফিজের ভাই আবুল বাশার পানিতে ভারী কিছু ফেলে দেয়ার আওয়াজ শুনতে পায়। তাৎক্ষনিক উক্ত আবুল বাশার ঘটনাস্থলে পানিতে নেমে পা দিয়ে হাটু পানিতে তল্লাশি করতে করতে পায়ের সাথে ভারী কিছু অনুভব করে এবং আবুল বাশার চিৎকার করে পানি হতে মইজল প্রকাশ মফিজের লাশ উদ্ধার করে।

তার শৌর চিৎকারে সেখানে অনেক লোকজন জড়ো হয়। ঐ মূহুর্তে মফিজের ডান কানে রক্তাক্ত ক্ষত দেখা যায় এবং ডান চোখের কোন থেকে রক্ত যেতে দেখা যায়। তখন মামলার ১ থেকে ৭ নং আসামীগণ ফিসারি থেকে কৌশলে বিভিন্ন দিকে চলে যায়।

তাৎক্ষনিক জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন করলে চরজব্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মইজল হক প্রকাশ মফিজের লাশের সুরত হাল প্রস্তুুত করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করে। মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, এ মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হওয়ার কিছুদিন পরে মামলার ১থেকে ৭নং আসামীগণ নিজেরা নিজেরা ঝগড়া লেগে বলতে থাকে যে, তারা ঘটনার পূর্বে উক্ত মফিজের সহিত ঝগড়ার প্রেক্ষিতে ক্ষুদ্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে মফিজকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ী মারধর করে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আসামী ধরাধরি করে মফিজের লাশ উক্ত ফিসারীজের পানির মধ্যে ফেলে দেয়।

এদিকে মফিজ হত্যা মামলার ১নং আসামী আবদুল করিম মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদী পক্ষকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মৃত মফিজের পিতা মামলার বাদী আবদুল হাসিম। শুধু তাই নয় পুলিশের সাথে আঁতাত করে আসামিপক্ষ অনৈতিক লেনদেন এর মাধ্যমে মফিজকে মৃগীরোগী বানিয়ে পানিতে পড়ে মারা গেছে বলে এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মামলার বাদীপক্ষ ।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu