রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

পাইকগাছার ভদ্রা নদীর ভাঙ্গন : আতঙ্কে ১৩ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫৯ জন সংবাদটি পড়েছেন
মোঃ আসাদুল ইসলাম,পাইকগাছাঃ পাইকগাছার দ্বীপ বেষ্টিত দেলুটি ইউনিয়নের ভদ্রা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে ভদ্রা পাড়ের মানুষেরা। আতঙ্কে রয়েছে ১৩ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ। যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে কালীনগর, হরিণখোলা, দারুণ মল্লিক, নোয়াই, দূর্গাপুর, বিগরদানা, ফুলবাড়ি, সেনের বেড়, গোপিপাগলা, তেলীখালী, সৈয়েদখালীর আমন ধান, সবজি ক্ষেত, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওার সম্ভবনা রয়েছে। ভদ্রার ভাঙ্গনে এখান থেকে প্রায় ৩৫ টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।
নদী পাড়ের বাসিন্দা অবিনাস মন্ডল জানান, রাত যতই বাড়ে ততই মনের ভিতর ভয় জাগে কখন যে ঘরবাড়ি সহ নদীতে নিয়ে যায়। সারারাত জেগে থাকি। নদীতে ভাটা হলে ঘুমাতে যাই। একই এলাকার সুনিল হালদার জানান, এ নদীর পাড়ে আমরা ২০ টি হালদার পরিবার, ১৫ টি রায় পরিবার ১০ টি মন্ডল পরিবার বাস করতাম। এখন তারা অন্যত্র জায়গা কিনে বসবাস করছে আবার যারা জমি কিনতে পারেননি তারা সরকারী রাস্থার পাশে বাস করছে। শুধু মাত্র কয়েকটি মন্ডল পরিবার এখানে আছে। তা আবার বিলিনের পথে।

স্থানীয় দিলিপ রায় জানিয়েছেন, ভাঙ্গনে আমাদের তিনটি পরিবারে সবকিছু হারিয়েছি। এখন ওয়াপদার পাশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছি। তিনি আরো জানান, বৈশাখের মাসের প্রথম দিক থেকে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। প্রায় ১মাসের মত ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে।

নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য পলাশ মন্ডল জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে বুলু গোল্ড ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে এখানে কাজ করা হয়। সর্বশেষ কারিতাস সংস্থা কাজ করেছে। কিন্তু ৮ মার্চ তাদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা চলে গেছে। আমাদের যা সমার্থ রয়েছে তা দিয়ে ভাঙ্গন কুলের মানুষের সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছি।
দেলুটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল বলেন, আমার ইউনিয়নটি দ্বীপবেষ্টিত সে কারণে আমরা এখানে সবসময় ঝুকিতে থাকি। তারপরেও আবার ভাঙ্গন লেগেছে। ইতিমধ্য আমি নিজ অর্থায়নে স্বেচ্ছাশ্রমে ইউপি সদস্যর সাথে নিয়ে বালির বস্তা ফেলে ঠেকিয়ে রেখেছি। কিন্তু বর্তমানে এখন বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন রোধকরা যাচ্ছে না। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাইকগাছা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকরী উপ- প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদ জানান, দেলুটি ইউনিয়নটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন। চারপাশে নদী দ্বারা বেষ্টিত। সে কারণে ছোটখাটো ঝড় বা জলোচ্ছাস হলে এ এলাকার ওয়াপদার বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ভাঙ্গনটি অনেকদিনের এখানে কালিনগর গ্রামটি প্রায় অর্ধেক চলেগেছে নদী গর্ভে। বারবার বিকল্প বাঁধ দিয়ে ঠেকায় রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তার পরেও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। খুব তাড়াতাড়ি কাজ হবে বলে আশা করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu