রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

পাইকগাছায় ডাক্তার সংকটে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চলে ফার্মাসিস্ট দিয়ে! 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৯৬ জন সংবাদটি পড়েছেন
মোঃ আসাদুল ইসলাম,পাইকগাছাঃ পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়নে ছয়টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে বছরের পর বছর ধরে নেই কোনো চিকিৎসা কর্মকর্তা। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবার কাজ চলছে উপসহকারী ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে। ফলে প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার দরিদ্র মানুষ।
জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ৬টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মধ্যে গদাইপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাগজে-কলমে রয়েছেন ডাক্তার খুকু মনি। কিন্তু ডাক্তারসংকটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বর্তমানে গদাইপুরে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী উপস্বাস্থ্য পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম।
রাড়ুলী ইউনিয়নের বাঁকা ও কাটিপাড়া বাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছেন ডাক্তার পপি রানী। কপিলমুনির আগড়ঘাটা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছেন ডাক্তার অরূপ রতন, কিন্তু তিনি খুলনা কোভিড হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন।
কপিলমুনিতে রয়েছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন। গড়াইখালী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বে রয়েছেন ডাক্তার মাহামুদা হক জুঁই। তিনি দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আর গড়াইখালীতে রয়েছেন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার শিপন হালদার। চাঁদখালী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার মোহাম্মদ সাইফুল্লা ইবনে মান্নান দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও সেখানে রয়েছেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক শাকিল মেহেদি রেজা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও নতুন পদায়ন একজন নার্স এবং একজন পিয়ন (এমএলএসএস) থাকার কথা থাকলেও এগুলো চলছে উপসহকারী ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে।
এর মধ্যে গদাইপুর, আগড়ঘাটা ও গড়াইখালী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র চলছে একজন করে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে। এর মধ্যে বাঁকার ফার্মাসিস্ট থাকেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এসব উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যিনি ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন তিনি আবার ওষুধ দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসারসহ পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র একজন করে কর্মচারী।
ডাক্তারসহ জনবলসংকটে এলাকাবাসী স্ব-স্ব এলাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। এদিকে অবকাঠামোর দিক দিয়ে পাকা ও আধুনিকায়ন হলেও গদাইপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশ নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুজন কুমার সরকার বলেন, জনবলসংকট ও জোয়ারের পানিতে গদাইপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেঝে ডুবে যায়।
এ কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নিতীশ চন্দ্র গোলদার বলেন, ‘৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১১ জন। সেখানে ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে ১২টি।
সে কারণে সাবসেন্টারের ডাক্তার দিয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা। আমি প্রতি মাসে জনবলসংকটের কথা লিখে পাঠাচ্ছি মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। এদিকে এ হাসপাতাল থেকে চারজন ডাক্তার কোভিট হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এ জন্য রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu