রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

নোয়াখালীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিএনপি নেতার মার্কেট ভাঙার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১
  • ২৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, শাহাদাৎ বাবুঃ বহুল আলোচিত নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে পৌরসভার লোকজন আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলা বিএনপির সভাপতির পারিবারিক মার্কেটের একাংশ ভেঙে দিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে মোহাম্মদী সুপার মার্কেট নামের ওই দ্বিতল মার্কেট ভাঙা শুরু হয়। মার্কেট ভাঙা শুরু হলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই ওরফে সেলিমের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন ওরফে স্বপন বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে মুঠোফোনে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত মার্কেটটি ভাঙার কাজ চলছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ওই মার্কেট না ভাঙার জন্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার বিষয়টি থানা-পুলিশের একটি দল কাদের মির্জাকে অবহিত করেছে। এই বিষয়ে পুলিশের যা করণীয়, পুলিশ তা–ই করেছে বলে তিনি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল থেকে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা ও তাঁর শতাধিক অনুসারীর উপস্থিতিতে পৌরসভার কর্মচারী ও শ্রমিকেরা বসুরহাটের জিরো পয়েন্ট-নিত্যানন্দমোড় এলাকার ওই মার্কেটের খাল পাড় অংশের প্রায় ১০ ফুট অংশ ভাঙা শুরু করে।

১৯৯৯ সালে আবদুল হাই ওরফে সেলিমের পারিবারিক প্রায় ১৬ শতাংশ জমির ওপর মার্কেটটি নির্মাণ করা হয় বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, মেয়র লোকজন নিয়ে আকস্মিকভাবে মার্কেটে ভাঙচুর শুরু করায় কমপক্ষে ১২ জন ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু মেয়র ও তাঁর লোকজনের ভয়ে ব্যবসায়ীদের কেউই এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। অনেকে নিরুপায় হয়ে কিছু মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

আবদুল হাই সেলিমের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন বলেন, তাঁদের মার্কেটটি সরকারি জায়গায় পড়েছে দাবি করে ২০২০ সালের প্রথম দিকে কাদের মির্জা তাঁদের একটি চিঠি দেন। ওই চিঠির বিরুদ্ধে তাঁরা জেলা সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন। পরে ওই বছরের ৪ মার্চ আদালত থেকে মার্কেটের বিষয়ে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার জন্য আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশ এখনো বলবৎ রয়েছে।

এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে কাদের মির্জা দলবল নিয়ে বেআইনিভাবে মার্কেট ভাঙা শুরু করেছেন। বেলায়েত হোসেন জানান, ভাঙা শুরু হওয়ার পর তিনি জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার এবং কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে মুঠোফোনে অবহিত করেছেন। তাঁরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেও দুপুর পর্যন্ত মার্কেট ভাঙা অব্যাহত ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের এক সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘুরেফিরে চলে আসেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে প্রতিবারই তাঁর নম্বর ব্যস্ত পাওয়া যায়। মার্কেট ভাঙার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়ে তাঁর মুঠোফোনে একটি খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তবে কাদের মির্জা খুদে বার্তার কোনো জবাব দেননি। তাই এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে কাদের মির্জা ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ আজ দুপুর ১২টার দিকে বলেন, ‘দলীয় বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে কাদের মির্জার সঙ্গে আমার কথা হয় না। এগুলো তাঁর (কাদের মির্জার) পৌরসভার বিষয়। তিনি পৌরসভা থেকেই এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এর সঙ্গে দলীয় সম্পর্ক নেই।’

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu