রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

সাতক্ষীরার কারখানায় নারী শ্রমিকরা ঝুঁকিতে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১
  • ৬২ জন সংবাদটি পড়েছেন

রাকিবুল হাসানঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরের একটি কাঁকড়ার আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন সালমা খাতুন (৪৫)। প্রতিদিন ১২ ঘন্টা কাজ করতে হয় তার। মালিকের দেওয়া শর্তমতে, এক সপ্তাহ দিনে আরেক সপ্তাহ রাতে কাজ করেন সালমা খাতুন। মাস শেষে মাইনে পান সর্বসাকুল্যে ৯হাজার টাকা। আড়তে কর্মরত নারী-পুরুষ সবার মাইনে সমান। সালমা খাতুনের মতো এখানে কাজ করেন সাবিনা খাতুন, মিতা খাতুন, নাসিমা খাতুন, রেহানা খাতুন, সাইদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, রবিউল ইসলামসহ অনেকেই। ভিতর ও বাইরে মিলে তিন স্তরে কাজ করতে হয় তাদের। শিফট্ অনুযায়ী নারী-পুরুষ সবাই একসাথে একই সময়ে কাজ শুরু করেন এবং একই সাথে কাজ শেষ করেন।

কিন্তু আড়তে নেই নারী-পুরুষের জন্য পৃথক শৌচাগার। নেই অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে কিম্বা অসুস্থ্য হলে নেই প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। শ্রমিকদের নেই এপ্রন, গ্লাবস্, মুখোশ, টুপি, রাবার বুটসহ নিরাপত্তা সামগ্রী।

আড়তে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা এখানে দেখা মেলেনি। এখানে মহিলা ও পুরুষ শ্রমিকদের জন্য পৃথক টয়লেট ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা রাখা যেখানে মহিলা ও পুরুষ নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার কথা থাকলেও তা নেই। শুধু একটি আড়তে এমন চিত্র নয়, এ চিত্র জেলার ৩৭০টি কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ খামার ও আড়তের।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১০৪টি সরকারি ও ২৬৬টি বেসরকারি কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ খামার ও আড়ত গড়ে উঠেছে। এ খাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে ১১ থেকে ১২ হাজার মানুষ।
কাঁকড়ার আড়তের শ্রমিকরা জানান, মালিকের বেঁধে দেওয়া শর্ত মেনেই তাদের কাজ করতে হয়। তাই মালিকের ইচ্ছে অনুয়ায়ী ৮ঘন্টার পরিবর্তে ১২ ঘন্টা কাজ করতে হয়। অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য তারা কোন পারিশ্রমিক পান না। কর্মস্থলে নারী-পুরুষ একসাথে কাজ করতে হয়। কাঁকড়া প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে হাতে ক্ষত সৃষ্টি হয়। নোনা পানির প্রাণি কাঁকড়া। ক্ষত সৃষ্টি হলে কিম্বা হাত-পা কেটে গেলে গাছের লতা-পাতার রস আর বাতিল কাপড়ের টুকরা দিয়ে ব্যান্ডেজ করতে হয়। সাপ্তাহিক ছুটি নেই। রেগুলার কাজ করতে হয়। নারী-পুরুষের জন্য আছে একটি টয়লেট। মাতৃত্বকালীন ছুটি কী তা এসব আড়তের নারী শ্রমিকরা জানেই না। বরফের কাজ করতে গেলে হাত-পা হিম হয়ে গেলেও কিছু করার নেই। ঠা-ায় আড়ষ্ট হয়ে কাজ করতে হয়। একই চিত্র জেলার চিংড়ি ও মৎস্য প্রক্রিয়াজাত কারখানায়। শোভন কর্ম পরিবেশের যে নিয়ম-কানুন ও উপাদান থাকার কথা তা এসব কারখানায় নেই। তবে মালিক ও কর্তৃপক্ষের দাবি শ্রমিকদের কোন অসুবিধা হলে তারা আন্তরিকতার সাথে দেখাশুনা করেন। তবে অনেক কারখানায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ মালিকের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হলেও শ্রমিকরা তা ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব আছে বলে মনে করেন মালিকপক্ষ।

এদিকে সাতক্ষীরা পৌর এলাকার একটা হোটেলে রাঁধুনি হিসেবে কাজ করা নাজমা বেগম। নাজমা বেগম বলেন, স্বামী অসুস্থ্য থাকাই স্বামীর চিকিৎসার ভরণপোষণ যোগাতে নাম মাত্র বেতনে কাজ করতে হচ্ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তরকারি কাটা ধোয়া রান্না করে যে বেতন পাই পুরুষ বাবুর্চি তার অর্ধেক সময় কাজ করে তার দ্বিগুন বেতন পান। এসময় তিনি দাবি করেন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারী শ্রমিকের নেই নেই শ্রমঘন্টা। মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই। নেই আলাদা বাথরুম। পুরুষ শ্রমিক নারী শ্রমিকের বাথরুম একটি হওয়া পড়তে হয় চরম বিপাকে। হোটেল-রেস্তরাঁ কাজ করতে করতে নারীদের হাতে ঘা হয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ নারীই স্বামী পরিত্যক্তা। শুধু নাজমা বেগম নয় বরং জেলার গৃহ নির্মাণ কাজে একটি বড় অংশ জড়িয়ে আছে নারী শ্রমিক। বিশেষ ইটের খোয়া ভাঙা, সিমেন্ট-বালু-খোয়া মিশ্রণ ও বহনের কাজে নারী শ্রমিক জড়িয়ে আছে। তাদেরও রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত শ্রমিকরা হাড় ভাঙা পরিশ্রম করেও পায় না তাদের ন্যায্য অধিকার। শারিরীক নির্যাতন, গালিগালাজ ফ্রি, নামমাত্র মজুরীতে কাজ করতে হয় তাদের। নেই ছুটি নেই কর্মঘন্টা। অথচ শোভন কাজের অন্যতম পূর্বশর্ত হল শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরী করা। কিন্তু এমনিভাবে অধিকার বঞ্চিত থেকে প্রতিটি মুহূর্তে কাজ করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকরা। তবে এবিষয়ে আইন থাকলেও তা মানেন না মালিকপক্ষ। ফলে যেসব শ্রমিকের হাত ধরে এই প্রবৃদ্ধি, সেই শ্রমিকদের শ্রম অধিকার আজ নানাভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জেলায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্ম পরিবেশ বিষয়ে কেউ মানেনা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার তদারকি করতেও দেখা যায় না। তবে নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না থাকার কারণে কর্মক্ষেত্রে অরক্ষিত শ্রমিকরা। অথচ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে সবচেয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন শ্রমিকরা। যেকোনো সময় চাকরি হারানোর ঝুঁকি থাকে। কর্মক্ষেত্রে কোনো শ্রমিক নিহত হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকটাই নিহত শ্রমিক স্বজনের কাছে তা পৌঁছায় না। শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ না করতে পারলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের অর্থনীতি। একারণে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের চাকরির নিরাপত্তা শোভন কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর, ঝাউডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকার চাল কল ও চাতালে কর্মরত নারী শ্রমিকরা জানেই না তাদের অধিকার ও ন্যায্যতা সম্পর্কে। তারা চুক্তিভিত্তিক কাজ করলেও মালিকের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যেসব উপকরণ দেওয়ার কথা তা দেওয়া হয়না। নারী-পুরুষ এক সাথে কাজ করতে হয়। কর্মক্ষেত্রে আসার সময় আছে কিন্তু যাওয়ার সময় নেই। কর্মক্ষেত্রে অসুস্থ্য হলে মালিক দেখে না। বরং বয়লার মেশিনের তপ্ত পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে গতর ঘেমে যায়। বয়লার বিস্ফোরণ ঘটলে প্রাণ যেতে পারে শত শ্রমিকের। এমনই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। এখানে নেই অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। আর থাকলেও তা কেউ ব্যবহার করতে জানে না। এভাবেই জেলার বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা রয়েছেন চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। সেখানে নেই শোভন কর্মপরিবেশ।

সম্প্রতি দাতা সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় পরিচালিত হেড সংস্থার বাস্তবায়নে এবং দৈনিক পত্রদূতের আয়োজনে এ্যাকশন ফর ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় মিডিয়া ক্যাফে-২০২১ এর আলোচনা সভায় বক্তারা সাতক্ষীরার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভিশন হচ্ছে নিরাপদ কর্মস্থল, শোভন কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের জন্য উন্নত জীবনমান এবং মিশন হচ্ছে শ্রমিকদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ ও বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫ বাস্তবায়ন, শিশুশ্রম নিরসন, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিভিন্ন খাতে ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ।
শিল্পক্ষেত্রে শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরির হার নির্ধারণ, মজুরি পরিশোধ, কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের মৃত্যু ও জখমের জন্য ক্ষতিপুরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও চাকরির অবস্থা ও পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ২০০৬ সালের ১১ অক্টোবর ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬’ প্রণীত হয় এবং অবিলম্বে এই আইন কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হয়। পরবর্তিতে ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর সরকার চিংড়ি শিল্পের জন্য শ্রম আইন অনুযায়ী সর্বনিম্নœ মজুরির হার পুন:নির্ধারণ করেছেন। রপ্তানি নির্ভর চিংড়ি শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্য করে প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার জন্য পণ্যের গুণগত মান ও ট্রেসেবিলিটি বাস্তবায়নের সাথে সাথে শ্রম আইন যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রম আইনের বাস্তবায়ন বা সোস্যাল কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা প্রায়শই চিংড়ি শিল্পে শ্রম আইনের বাস্তবায়ন বা সোস্যাল কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার ব্যাপারে পরিদর্শন মিশন পাঠাচ্ছে এবং প্রতিবেদন প্রণয়ন করছে। এসব মিশন ও পরিদর্শন প্রতিবেদন μেতাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এমনকি কোন প্রকার বিরুপ মন্তব্য প্রতিবেদন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ রপ্তানি খাতকে বিদেশের বাজারে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। সেকারণে চিংড়ি শিল্পে শ্রম আইন প্রয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া শ্রম আইনের সঠিক বাস্তবায়ন এর সাথে যুক্ত হাজার হাজার দরিদ্র মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে এবং দেশ থেকে দারিদ্র বিমোচন সহজতর হবে। কমপ্লায়েন্ট কারখানা হিসেবে স্বীকৃত হবার প্রয়োজনীয় ধাপসমুহ চিংড়ি রপ্তানিযোগ্য পণ্য হওয়ায় আমদানীকারক দেশের দৃষ্টিতে শিল্পটি কতটুকু কমপ্লায়েন্ট তার স্বীকৃতি খুবই গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। এখানে সোস্যাল কমপ্লায়েন্ট কারখানা হিসেবে স্বীকৃত হবার প্রয়োজনীয় ধাপসমুহ দেওয়া হলো:
১. শিশু শ্রম পরিহার: কার্যকরভাবে শিশু শ্রম পরিহার করা এবং ১৪ বছরের কম বয়সের কোন শ্রমিক নিয়োগ না করা। ১৪ বছরের বেশি এবং ১৮ বছরের কম বয়সের শ্রমিক নিয়োগ দিলে তাদের বয়স ও কর্মঘন্টা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা এবং ‘শিশু শ্রমিক নাই’ এই মর্মে একটি নোটিস স্পষ্টভাবে সকলের দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে টাঙ্গিয়ে রাখা।
২. ন্যূনতম মজুরি প্রদান নিশ্চিত করা: কারখানায় কর্মরত সকল শ্রমিককে (স্থায়ী ও অস্থায়ী) সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি প্রদান নিশ্চিত করা। এজন্য মজুরি পরিশোধ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা।

৩. ওভারটাইম ভাতা প্রদান: শ্রমিকদের দৈনিক ৮ ঘন্টার বেশি ২ ঘন্টা অতিরিক্ত কাজ করালে তা রেকর্ড করা এবং অতিরিক্ত ২ ঘন্টার জন্য সাধারণ কর্মঘন্টার দ্বিগুন হারে মজুরি প্রদান করা এবং দ্বিগুন হারে মজুরি পরিশোধ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা।
৪. ছুটি: কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্যান্য ছুটি প্রদান করা এবং রেকর্ড সংরক্ষণ করা।
৫. নিয়োগপত্র প্রদান: আবেদনপত্রের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও মজুরি সম্পর্কে আলোচনা করে নিয়োগপত্র প্রদান করা। শ্রমিকের সম্মতির স্বাক্ষর গ্রহণ করে তার ব্যক্তিগত ফাইলে নিয়োগপত্রের কপি সংরক্ষণ করা।
৬. আইডি কার্ড প্রদান: প্রত্যেক শ্রমিককে তার নাম, পদবী, বয়স, সেকশন উল্লেখ করে ছবিসহ আইডি কার্ড সরবরাহ করা।
৭. মাতৃত্বকালীণ ছুটি ও ভাতা প্রদান: কারখানায় কর্মরত মহিলা শ্রমিককে শ্রম আইন অনুযায়ী মাতৃত্বকালীণ ছুটি ও ভাতা প্রদান করা এবং এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা।
৮. শ্রমিকদের সাথে মানবিক আচরণ: কারখানার শ্রমিকদের সাথে সর্বদা মানবিক আচরণ করা বাঞ্ছনীয়। μেতাগণ কমপ্লায়েন্ট কারখানায় মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক ও মানবীয় পরিবেশের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
৯. অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা: কারখানায় পর্যাপ্ত পরিমানে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করতে হবে যা সহজে দৃষ্টি গোচর হয়। বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে অগ্নিকান্ড প্রতিরোধের জন্য সকল বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপত্তা আবরণী দ্বারা আবৃত করা এবং প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক্যাল সার্কিট স্থাপন করা।
১০. নিরাপত্তামূলক পোষাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার: নিরাপদ ও সংμমনমুক্ত খাদ্য প্রμিয়াজাতকরণের সময় শ্রমিকদের এপ্রন, মুখোশ, টুপি, রাবার বুট প্রভৃতি ব্যবহার করা।
১১. প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা: কারখানায় কর্মরত সকল শ্রমিকের ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির দায়িত্বে প্রাথমিক চিকিৎসার উপযুক্ত সরঞ্জামাদিসহ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা এবং স্পষ্টভাবে সকলের দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে নোটিস টাঙ্গিয়ে রাখা।
১২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: কারখানার ফ্লোর, সিঁড়ি, চলাচলের স্থান, শ্রমিকদের টয়লেট, ওয়াশরুম, পানীয় জলের কাছে চারিদিক সর্বদা পরিষ্কার এবং শুকনা রাখা।
১৩. বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ: কারখানার প্রতিটি ফ্লোরে, প্রোডাকশন এরিয়ায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহ থাকা।
১৪. টয়লেট: মহিলা ও পুরুষ শ্রমিকদের জন্য পৃথক টয়লেট ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা রাখা যেখানে মহিলা ও পুরুষ নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা থাকবে।
সার্বিক বিষয়ে শ্রমিক নেতা শেখ হারুন-উর রশিদ বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিক বান্ধব। শ্রমিকদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সরকার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদপ্তর ও শ্রম আদালত গঠন করেছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় সরকারের পাশাপাশি সকলকে কাজ করতে হবে।
সাতক্ষীরা নাগরিক নেতা এড: ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যাবতীয় উপকরণ সরবরাহ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে শ্রমিকের জীবন ও সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব মালিককেই নিতে হবে। তবে শ্রমিকরা নিরাপদ পরিবেশ ফিরে পাবে।
জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো: আনিসুর রহিম বলেন, সাতক্ষীরার চিংড়ি, কাঁকড়া, চাতাল, চাল কল, হোটেল-রেস্তরাঁ, ইটেরভাটা, নির্মাণ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরা রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। শুধু মালিক পক্ষকে দোষারোপ করলে হবে, নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। ঝুঁকি মোকাবেলার কৌশল শিখতে হবে। মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হতে হবে। তবেই কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা আশা করা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu