রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

সংবাদ প্রকাশের পর রাজাকার পুত্র নৌকার চেয়ারম্যান সওকাতের দৌড় ঝাঁপ শুরু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট টাইম রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১
  • ৭৩ জন সংবাদটি পড়েছেন
রাকিবুল হাসানঃ কালিগঞ্জে নৌকার চেয়ারম্যান রাজাকারপুত্র শওকত শিরোনামে গত শুক্রবার (৭অক্টোবর) বিভিন্ন  অনলাইন নিউজপোর্টালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরের দিন থেকে বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাঁপ শুুরু করেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গাজী শওকত হোসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, পত্রিকায় বক্তব্য প্রদানকারী ধলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক গনি মোড়ল ও স্থানীয় খোরশেদ আলমের উপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছে চেয়ারম্যান। এমনকি তিনি উপজেলা ও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের দারস্থ হচ্ছেন একটি প্রত্যয়ন নেয়ার জন্য। প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করছেন তার পিতা মৃত গাজী খোরশেদ রাজাকার কিংবা পাকিস্তানি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেননা। কিন্তু এই প্রত্যয়ন দিতে অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সকল মুক্তিযোদ্ধারা।
স্থানীয় অনেকে জানান, শওকত চেয়ারম্যান এলাকার ধনকুব ও একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তি মুখ খুলতে সাহস পায়না‌। কারন টাকা ও ক্ষমতার জোরে তিনি সব কিছু করতে পারেন।
উল্লেখ্য, চেয়ারম্যানের পিতা মৃত খোরশেদ গাজী ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন পাকবাহিনীর প্রধান হাতিয়ার। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি বহু মানুষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ দিয়েছেন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী
এলাকার নিরীহ মানুষদের বাড়ি থেকে সব মালামাল ও লুটপাটের ও অভিযোগ রয়েছে  খোরশেদ গাজীর বিরুদ্ধে।
সাবেক কালিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মৃত আলহাজ্ব শেখ ওহেদুজ্জামান খোরশেদ গাজীকে রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করেন।এমনকি তিনি বর্তমানে গ্রেজেট ভুক্ত রাজাকারের  তালিকায় রয়েছে বলে জানান স্থানীয় প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা। তবে তার ছেলে আলহাজ্ব গাজী শওকত হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান শওকত হোসেন ও তার পরিবার  আজীবন আওয়ামীলীগ সরকারের কট্টর বিরোধীতা করেছেন।
কালিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ আব্দুল হাকিম বলেন,ধলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গাজী শওকত হোসেনের পিতা মৃত  গাজী খোরশেদ আলম স্বাধীনতার বিপক্ষে কাজ করেছেন। তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের পিস কমিটির সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি সরকারের গ্রেজেট ভুক্ত পিস কমিটির তালিকায় তার নাম আছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার সম্পর্কে জানতে চাইলে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী শওকত হোসেন  সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি আওয়ামীলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। জামাত এমনকি বিএনপির সংগঠনের সাথে আমি জড়িত ছিলাম না। এছাড়া তার পিতার রাজাকার কিংবা পিস কমিটির সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক  ছিলোনা বলে দাবি করেন তিনি।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একে এম ফজলুল হক বলেন, গাজী শওকত হোসেনের পিতা রাজাকার ছিলেন এটা আমি শুনেছি। আমি গতবার জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম না এজন্য সে কিভাবে নৌকা পেয়েছে এবিষয়ে আমি অবগত নই। তবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী শওকত হোসেনের এবার নৌকা প্রতীক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন : ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ

আমাদের রূপসী ইউটিউব চ্যানেল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রবিউল ইসলাম তোতা

প্রধান কার্য্যালয় : রামনগর পূর্ব রূপসা, রূপসা, খুলনা

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Hwowlljksf788wf-Iu