- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী মোছাঃ মাহবুবা নাসরীন কেয়া। একই সঙ্গে দেনমোহর, খোরপোষ ও সন্তানদের ভরণ-পোষণের দাবিতে তিনি ঢাকার আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর রেজিস্টার্ড ডাকযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠান কেয়া। তবে প্রায় দুই মাস পার হলেও এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
মামলার শুনানির জন্য আগামী ২৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের সঙ্গে মাহবুবা নাসরীন কেয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর দীর্ঘ সময় তিনি বেকার থাকলেও স্ত্রী তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বৈবাহিক জীবনের শুরু থেকেই স্বামীর অবহেলা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন কেয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার আচরণ আরও কঠোর হয়ে ওঠে। গভীর রাতে বাসায় ফেরা, মদ্যপান, পরকীয়ায় আসক্তি ও অসংযত আচরণের কারণে পারিবারিক পরিবেশ অস্থির হয়ে পড়ে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী দাবি করেন, স্বামীর উচ্চশিক্ষা, বিদেশ সফর ও বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি ঋণ নিয়ে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় অর্ধকোটি টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ডিপিএসের অর্থ এবং জমি ও ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রেও তার অবদান রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি কোনো আর্থিক দায়িত্ব নেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণ-পোষণ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের দায়িত্বও কখনো পালন করেননি অভিযুক্ত। এমনকি সন্তানদের অসুস্থতার সময়ও খোঁজখবর নেননি বলে দাবি করা হয়েছে। এ অবস্থায় নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কেয়া আলাদা বসবাস শুরু করেন এবং পরে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যান।
এছাড়া, স্ত্রীর অভিযোগ—তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামে মামলা করা এবং ফ্ল্যাট থেকে উচ্ছেদের হুমকিও দিয়েছেন ড. সাঈদ। এ বিষয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে গেছে। তার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।”
এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এটি পারিবারিক বিষয় হওয়ায় তাদের পারিবারিকভাবে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আইনি পাওনা যেমন দেনমোহর, খোরপোষ ও সন্তানের ভরণ-পোষণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।”