- by Editor
- Jan, 03, 2025 07:14
নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার সৎ মা কর্তৃক পেনশন ও জমি বিক্রির প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বাড়ি দখলের পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃত পরিদর্শকের মেয়ে মোসাঃ ফারজানা শারমিন রুপা খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি খুলনা জেলা রেজিস্ট্রারের দপ্তরেও দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মহানগরীর নিরালা প্রান্তিকা এলাকার মৃত পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মানসুরা খানম ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর মারা যান। পরে রফিকুল ইসলাম ২০২২ সালের ১৭ জুন জাহিদা সুলতানা রুমা নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিবাহের পর থেকেই তাদের সংসারে কলহ-বিবাদ চলতে থাকে।
ফারজানা শারমিন রুপার অভিযোগ, তার সৎ মা জাহিদা সুলতানা রুমা কৌশলে তার পিতার পেনশনের ৭০ লাখ টাকা, গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির ২৮ লাখ টাকা এবং প্রথম স্ত্রীর স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। এমনকি রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পরও ওই নারী এতিম দুই সন্তানকে পিতার সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছেন।
রুপা জানান, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রাতে তার পিতা মারা যান। তিনি ধারণা করেন, দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের কারণেই হয়তো তার পিতা হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। তবে মৃত্যুর পর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অচেনা লোকজন পোস্টমর্টেমে বাধা দেয় এবং পরিবারকে হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পেনশনের টাকার দাবিতে অভিযুক্ত জাহিদা সুলতানা রুমা একই কাজী অফিস থেকে দুটি আলাদা তারিখে ভিন্ন কাবিননামা তৈরি করেন। এ ঘটনায় কাজী (নিকাহ রেজিস্ট্রার) মো. হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
কাজী হারুনুর রশিদ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “দুটি কাবিননামাই সঠিক। প্রথমটি রফিকুল সাহেব গোপন রেখেছিলেন প্রথম স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে, পরে প্রকাশ্যে দ্বিতীয় কাবিন হয়।” তবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদা সুলতানা রুমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মৃত রফিকুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মানসুরা খানম জীবিত থাকাকালীন নিরালা প্রান্তিকার ৬৩ নম্বর বাড়িটি দুই সন্তান রুপা ও রাজের নামে দলিল করে দেন। কিন্তু বর্তমানে ওই বাড়িটি দখলেরও চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা খুলনা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চেয়েছেন।