- by Editor
- Sep, 18, 2025 12:46
সোনালী ডেক্স: রাজনীতির কোলাহল, ক্ষমতার হিসাব আর প্রতিহিংসার বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে কখনো কখনো এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়—মানবতা এখনো বেঁচে আছে। ঠিক তেমনই এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী ইতিহাসের জন্ম দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দীর্ঘদিন ধরে যিনি ছিলেন শুধু “বাসার কাজের মেয়ে”—সেই ফাতেমা বেগমকে আইনি ও সামাজিকভাবে নিজের বোনের স্বীকৃতি দিলেন তারেক রহমান। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে।
দুঃসময়ের নীরব ছায়াসঙ্গী
তারেক রহমান তার আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, পরিবারের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে ফাতেমা বেগম ছিলেন ছায়ার মতো পাশে। যখন তিনি সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন, তখন বাসায় একা ছিলেন মা—সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই সময় মায়ের একমাত্র সঙ্গী ছিলেন ফাতেমা, যিনি নিজের মেয়ের মতো করে দেখাশোনা করেছেন তাকে।
কারাগারে মায়ের পাশে ৭৭৮ দিন
২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। মায়ের সেবা-যত্নের জন্য কেউ না থাকায় ফাতেমা বেগম স্বেচ্ছায় আদালতে আবেদন করেন—
“স্যার, আমি ম্যাডাম জিয়ার সঙ্গে জেলে যেতে চাই, তার সেবা করার জন্য।”
এই আবেদন শুনে আদালতও বিস্মিত হয়। মানবিক বিবেচনায় আদালত অনুমতি দেন—ফাতেমা যেন কারাগারেই মায়ের সঙ্গে থাকতে পারেন। টানা ৭৭৮ দিন তিনি কারাগারে থেকে একজন কন্যার মতো দায়িত্ব পালন করেন—নিঃস্বার্থভাবে, নিঃশব্দে।
মায়ের গন্ধ, মায়ের স্মৃতি
তারেক রহমান বলেন,
“আজ আমার মা নেই। কিন্তু এই ১৮ বছরে ফাতেমা যেভাবে মায়ের ছায়াসঙ্গী ছিল, তার শরীর থেকেই এখনো আমি মায়ের গন্ধ খুঁজে পাই।”
এই উপলব্ধি থেকেই তিনি নেন এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত—আইনি প্রক্রিয়ায় ফাতেমাকে দত্তক নিয়ে তাকে নিজের বোনের মর্যাদা দেওয়ার।
জিয়া পরিবারের কন্যা ফাতেমা
আজ থেকে ফাতেমা আর কোনো কাজের মেয়ে নন। তিনি—
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একমাত্র কন্যা,
তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর একমাত্র বোন,
এবং জিয়া পরিবারের সম্পত্তির আইনি অংশীদার।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, পিতা-মাতার রেখে যাওয়া সব সম্পত্তি থেকে ফাতেমা তার ন্যায্য অংশ পাবেন এবং জিয়া পরিবারের একমাত্র কন্যা হিসেবে তিনি পূর্ণ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হবেন।
দেশবাসীর প্রতি আবেদন
তারেক রহমান দেশবাসী ও বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন—
“আমার বোন ফাতেমাকে আপনারাও আপনাদের নিজের বোনের সম্মানের চোখে দেখবেন।”
মানবতার রাজনীতি
এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়—এটি মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ক্ষমতা, পরিচয় বা সামাজিক ব্যবধান নয়—ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও ত্যাগই যে মানুষের প্রকৃত পরিচয়, তার বাস্তব প্রমাণ এই ঘটনা।
এমন মহৎ ও সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য তারেক রহমানের প্রতি দেশবাসীর সম্মান নিঃসন্দেহে আরও বেড়ে গেল।
রাজনীতির কঠিন মাটিতে দাঁড়িয়ে মানবতার এমন ফুল খুব কমই ফোটে—ফাতেমা সেই ফুলের নাম, আর এই ইতিহাসের নাম মানবিক সাহস।