- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ এক দশক পর বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন করে গতি ফিরেছে। মামলায় সন্দেহভাজন সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে, মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আদালত তিনজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন। এই তিনজন হলেন—সার্জেন্ট জাহিদ, সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক জাহাঙ্গীর আলম।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এসব সন্দেহভাজনের ডিএনএ মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদঘাটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন স্থবির থাকা মামলাটি এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন মোড় নিতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করেও মামলার কোনো সুরাহা করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, তদন্তে প্রথমবারের মতো তিন সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্যের নাম প্রকাশ্যে আসায় ভুক্তভোগী পরিবার নতুন করে আশার আলো দেখছে। তারা দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমানকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল মামলার চূড়ান্ত অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দশ বছরেও বিচার না পাওয়া এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে নতুন করে তদন্তের গতি ও গ্রেপ্তার—সব মিলিয়ে ন্যায়বিচারের সম্ভাবনা আবারও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।