- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আরিফ সরকারকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নরসিংদী জেলা।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকার (৪০)-কে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশকে জানানো হলে পিবিআই ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম দুবাই গিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। গত ৬ মে ২০২৬ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আরিফ সরকার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া কামারগাঁও গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ১৩ মিনিটে শিবপুরে নিজ বাসায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খানকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ওই বছরের ৩১ মে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিহতের ছেলে আমানুর রশিদ খান বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় আরিফ সরকারসহ একাধিক আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে একই বছরের ২৩ জুন পিবিআই নরসিংদী মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তকালে এর আগে মামলার আরেক আসামি মহসীনকে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেওয়া তথ্যে মহসীন হত্যাকাণ্ডে আরিফ সরকারসহ অন্যান্য আসামিদের সম্পৃক্ততা ও পরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে জানায় পিবিআই।
পরে আরিফ সরকারের বিদেশে অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে পিবিআই নরসিংদী জেলা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে। আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর আরিফ সরকারসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।
সর্বশেষ ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেফতার করলে বাংলাদেশ পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শিবপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে শিবপুর থানা পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে।