- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বকশিশ আদায়, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগে নগরীর লবণচরা ও দৌলতপুর থানার ৬ পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মিল-কলকারখানা থেকে বকশিশ আদায়ের অভিযোগে লবণচরা থানা ও ক্যাম্পে কর্মরত চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা হলেন— এসআই (নি.) মো. মিজানুর রহমান, এএসআই (নি.) এম এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এএসআই (নি.) খালিদ হাসান এবং কনস্টেবল উৎপল হালদার। তাদেরকে অবিলম্বে দায়িত্ব হস্তান্তর করে কেএমপির বয়রাস্থ পুলিশ লাইনে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দৌলতপুর থানায় কর্মরত আরও দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সখ্যতা এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এসআই (নি.) মো. আব্দুল হালিম ও এএসআই (নি.) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকেও একইভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অফিস আদেশে সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনারদের এসব অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে যাতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড না ঘটে—সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জেলা পুলিশেও একই অভিযোগ: ভাবমূর্তি ফেরাতে প্রয়োজন কঠোর নজরদারি
এদিকে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে খুলনা জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ক্যাম্পগুলোতেও। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু সদস্য ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বকশিশ বা চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করে থাকে। এছাড়া কোথাও কোথাও অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও শোনা যায়।
সচেতন মহল মনে করছেন, কেএমপির মতো জেলা পুলিশেও যদি একইভাবে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তারা বলছেন, পুলিশ বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়ন জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত, হটলাইনভিত্তিক অভিযোগ গ্রহণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।