- by Editor
- Jan, 02, 2025 18:05
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পাক দরবার শরীফের পীর নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার (৮৫) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় নির্দেশদাতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শরীফ আল রাজীব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার বড় ঠাকুরকান্দি গ্রামের মাওলানা বাহাউদ্দীনের ছেলে মো. আ. লতিফ (৩৫)। তিনি গোয়ালন্দের স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন এবং নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের সরাসরি নির্দেশদাতা ছিলেন।
গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়া এলাকার বাসিন্দা অভি মন্ডল রঞ্জু (২৯)।
পুলিশের বক্তব্য
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শরীফ আল রাজীব জানান, নুরাল পাগলার দরবারে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় ভক্ত রাসেল মোল্লা নিহত হওয়ার ঘটনায় নিহতের বাবা আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪ হাজার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার সূত্রে লতিফ হুজুর ও অভি মন্ডল রঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি অপু কাজীর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে লতিফ হুজুরের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরাল পাগলার দরবারে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়। এ সময় সংঘর্ষে ভক্ত রাসেল মোল্লা নিহত হন এবং দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
ঘটনার এক পর্যায়ে হামলাকারীরা নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলে।
মামলা ও গ্রেপ্তার
ঘটনার পর রাতে পুলিশের কাজে বাধা, হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
দুই মামলায় এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রাসেল মোল্লা হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছে আরও দুইজন।