- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতা মোতালেব শিকদারকে প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যুবশক্তি নেত্রী তনিমা ওরফে তন্বীকে গ্রেফতার করায় তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এনসিপি শ্রমিক শক্তির খুলনা মহানগর আহ্বায়ক মোতালেব শিকদারকে মাথা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তবে গুলি তার কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পরে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।
ডিবির অভিযান ও তন্বী গ্রেফতার
ঘটনার পরপরই ডিবি পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল রেকর্ড এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে নগরীর একটি বাসা থেকে যুবশক্তি নেত্রী তন্বীকে আটক করা হয়।
ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান,
“ঘটনার আগে ও পরে তন্বীর গতিবিধি এবং যোগাযোগের তথ্য আমাদের সন্দেহ জোরদার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
গ্রেফতারকৃত তন্বী যুবশক্তির খুলনা মহানগরের একজন পরিচিত নেত্রী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে—
তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিতর্কে জড়িত ছিলেন
মোতালেব শিকদারের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব ছিল
একাধিকবার দলীয় সভায় প্রকাশ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে
পুলিশ ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এ হামলার পেছনে থাকতে পারে—
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব
এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক বিরোধ
সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি সূত্র জানায়, তন্বীকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অস্ত্রের উৎস ও হামলাকারীর পরিচয় শনাক্তে অভিযান চলছে।
এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে—
“দলের ভেতরে বা বাইরে—যেই জড়িত থাকুক, সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
খুলনায় এনসিপি নেতাকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনা শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলাই নয়; এটি রাজনীতির অভ্যন্তরীণ সংকট ও সহিংসতার বিপজ্জনক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। তদন্তের ফলাফলই বলে দেবে—এটি নিছক ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র