নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বর্তমান সরকার। মানুষের প্রত্যাশা ছিল—এই নির্বাচনের মাধ্যমে ফিরবে ভোটাধিকার, পুনরুদ্ধার হবে গণতন্ত্রের পথচলা। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আশার জায়গায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক ও গভীর প্রশ্ন।
গত ১৮ মাসে সরকার যে ‘ম্যাজিক’ দেখানোর কথা বলেছিল, তার চেয়েও বেশি ম্যাজিক যেন ভোটের আগেই দেশের মানুষ দেখে ফেলেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বাভাবিক নড়াচড়া, পর্দার আড়ালের হিসাব-নিকাশ এবং হঠাৎ করে সরকারের উপদেষ্টাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার খবরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উপদেষ্টাদের এমন সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভেতরে ভেতরে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কে কোন পথে কোথায় আশ্রয় নেবে—এমন আলোচনা এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত সর্বত্র। ফলে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই ভোট আদৌ কতটা গ্রহণযোগ্য হবে? ভোটের দিন ও ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি কেমন হবে? সহিংসতা, অস্থিরতা কিংবা নতুন কোনো সংকট কি অপেক্ষা করছে? এসব প্রশ্নের উত্তর না থাকায় মানুষের চোখে যেন ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “ভোট দিতে পারব কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তার চেয়েও বড় কথা, ভোটের পর দেশে শান্তি থাকবে তো?” একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন একজন ব্যবসায়ীও। তার ভাষায়, “অস্থিরতা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো সকল দলের অংশগ্রহণে একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। তা না হলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হতে পারে।
মানুষ আজ শুধু ভোটাধিকার নয়, চায় নিরাপদ জীবন, স্থিতিশীল রাষ্ট্র ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে কিনা—সেই পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।