- by Editor
- Jan, 02, 2025 18:44
নিজস্ব প্রতিবেদক: গণভোটে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন; সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষপাতমূলক আচরণে শাস্তির বিধান কার্যকর
ঢাকা: আসন্ন জাতীয় গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের পক্ষে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রচারণায় অংশ নিলে তাকে ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে পাঠানো একাধিক চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা কেবল ভোটারদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া ও সচেতনতা বিষয়ে তথ্য দিতে পারবেন। তবে তারা কোনোভাবেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না।
ইসি জানায়, কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং গণভোট সংক্রান্ত আইনে উল্লেখ রয়েছে—
সরকারি কর্মচারীদের পক্ষপাতমূলক প্রচারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এ অপরাধে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও আরোপ করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান,
“গণভোট একটি সংবিধানিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এখানে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ধরনের পক্ষপাত সহ্য করা হবে না।”
ইসি’র নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সচেতন করতে বলা হয়েছে, যাতে কেউ অজান্তে আইন লঙ্ঘনের শিকার না হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কঠোর অবস্থান গণভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে। তারা মনে করেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হলে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণভোটে পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।