- by Editor
- Jan, 02, 2025 18:05
নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের টেকনাফে ব্রিজের নিচ থেকে মোহাম্মদ ইউনুস সিকদার (৪৫) নামের এক সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী ব্রিজের নিচ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইউনুস সিকদার টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী কহিনুর আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে দাওয়াতের কথা বলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে আলম শফুর গ্রুপ। তাদের সঙ্গে কোনো টাকার লেনদেন ছিল না। মঙ্গলবার রাতে বলেছিল, সকালে ফেরত দেবে—কিন্তু সকালে পেলাম স্বামীর লাশ। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সহায়তায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নিহতের বড় ছেলে মোহাম্মদ ফারদিন জানান, মঙ্গলবার রাতে আলম শফুর মিয়ার আমন্ত্রণে তার বাবা ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে ৭০ লাখ টাকা দাবি করে তাকে আটকে রাখা হয়। “পুলিশ নিয়ে আমরা যখন সেখানে যাই, তখন শফুরের লোকজন গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরে পুলিশ চলে যায়। এরপর থেকে বাবাকে খুঁজে না পেয়ে সকালে তার লাশ পাই,” বলেন ফারদিন।
মঙ্গলবার রাতে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. আলম শফুর মিয়ার বাড়িতে আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন ইউনুস সিকদার। পরদিন সকালে স্থানীয়রা রঙ্গিখালী ব্রিজের নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
টেকনাফ থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, “নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লেনদেনজনিত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়ে টেকনাফ পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম বলেন, “কমিটির বিষয়ে আলোচনার কথা বলে মঙ্গলবার রাতে শফুর মিয়ার বাড়িতে ডেকে নেয়া হয় ইউনুস সিকদারকে। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই শফুর মিয়া পলাতক। শুনেছি, তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ৭০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল।”
স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, নিহত ইউনুসের সঙ্গে সম্প্রতি ইয়াবা সংক্রান্ত পাওনা টাকা নিয়ে আলম শফুর মিয়া, আবছার উদ্দিন, আনোয়ার হোসাইন (লেটাইয়্যা) ও মিজানুর রহমান (বাড়ু মিজান) নামের কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেকনাফে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, হত্যার পেছনে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সংক্ষিপ্ত তথ্য:
নিহত: মোহাম্মদ ইউনুস সিকদার (৪৫)পরিচয়: সাবরাং ইউপি’র সাবেক সদস্য, টেকনাফ উপজেলা কোকো ক্রীড়া সংসদের সভাপতি
উদ্ধারের সময়: বুধবার সকাল ৮টা
স্থান: হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী ব্রিজের নিচে
অভিযুক্ত: আলম শফুর মিয়া ও তার সহযোগীরা
অভিযোগ: ৭০ লাখ টাকা দাবি ও পরিকল্পিত হত্যা