- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানা এলাকায় ৬০ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিজ বাড়িতে খুন হন নূরজাহান (৬০)। বাড়িটি নির্জন হওয়ায় দুই দিন পর, ৩০ জানুয়ারি, রান্নাঘরের পাশে খড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবার। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে নুরুন্নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৯০, তারিখ-৩১/০১/২০২৬, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।
প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা ছায়া তদন্ত চালিয়ে যায়। গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংস্থাটি মামলাটি স্বউদ্যোগে গ্রহণ করে এবং উপ-পরিদর্শক (নিঃ) অমিতাভ দাসকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২ মে ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে মো. রনি মিয়া (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি পেশায় একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, রনি মিয়া প্রায়ই তার প্রেমিকাকে নিয়ে নূরজাহানের বাড়িতে আসতেন এবং সেখানে সময় কাটাতেন। বিনিময়ে তিনি ভিকটিমকে কিছু অর্থ দিতেন। ঘটনার দিন পূর্বের বকেয়া ৫০০ টাকা দাবি করলে রনি তা পরিশোধে ব্যর্থ হন। এ সময় নূরজাহান তার এই কর্মকাণ্ড পরিবারের কাছে প্রকাশ করার হুমকি দিলে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে রনি রান্নাঘরে থাকা পাটার শিল দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন।
হত্যার পর তিনি মরদেহটি খড় দিয়ে ঢেকে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং যাওয়ার সময় ভিকটিমের বাটন মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান।
গ্রেফতারের পর আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।