- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
:নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার রূপসা উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমির দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে গিয়ে উকিল কমিশন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বাধার মুখে পড়ে কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে অবস্থিত শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জমিদাতা মৃত শামসুর রহমান মিনার মালিকানাধীন ১৭৫ শতাংশ জমির মধ্যে ১০০ শতাংশ বিদ্যালয় এবং ৫ শতাংশ মসজিদের নামে দান করা হয়। বাকি ৭০ শতাংশ জমি তার ওয়ারিশরা আলহাজ্ব শাহজাহান শেখের কাছে বিক্রি করেন।
পরবর্তীতে ওই ৭০ শতাংশ জমির দখল নিতে গেলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি জমির মালিক শাহজাহান শেখ আদালতের রায় পান।
রায়ের ভিত্তিতে উকিল কমিশন, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রটোকলসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের কার্যক্রমে বাধা দেন। এতে করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে কমিশন তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীসহ কয়েকজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিদ্যালয়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, “এ প্রতিষ্ঠানটি এলাকার মানুষের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে। কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই স্কুলের মাঠসহ জায়গা দখলের চেষ্টা করা হয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমাকে ও শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে—এর নিন্দা জানাই।”
অন্যদিকে উকিল কমিশনের এক সদস্য বলেন, “আমরা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধার কারণে কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।”
এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ অনেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান বলেন, “আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান চাই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।