আজকের তারিখ: শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৩:২৯ রাত | ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সততার আলো ছড়ালেন রূপসার যুথী খাতুন


ফিচার প্রতিবেদন: বর্তমান সময়ের ব্যস্ততা আর নানা অনিয়মের ভিড়ে সততার গল্প যেন দিন দিন বিরল হয়ে উঠছে। ঠিক এমন এক সময়ে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের কৃতী সন্তান যুথী খাতুন দেখালেন—মানুষ চাইলে এখনও সততা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

ঘটনাটি একেবারেই সাধারণ একটি দুপুরের। নামাজ শেষে কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন যুথী খাতুন। ঘুম ভাঙার পর স্বাভাবিক অভ্যাস অনুযায়ী মোবাইল ফোন হাতে নেন তিনি। হঠাৎ বিকাশ থেকে আসা একটি মেসেজ তার দৃষ্টি কাড়ে। সেখানে লেখা—তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা। প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি। মনে হয়েছিল হয়তো কোনো ভুল বা প্রযুক্তিগত সমস্যা।

কিছুক্ষণ পর আবার যাচাই করে নিশ্চিত হন—টাকাটি সত্যিই তার অ্যাকাউন্টে এসেছে। কিন্তু নিজের লেনদেনের হিসাব মিলিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এই অর্থ তার নয়। অচেনা এই টাকা তাকে আনন্দিত করার বদলে বরং চিন্তায় ফেলে দেয়।

ঠিক দশ মিনিট পর একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জানান, ভুলবশত তাদের টাকা অন্য নম্বরে চলে গেছে। বিষয়টি শুনে যুথী খাতুন আর দেরি করেননি। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সঙ্গে সঙ্গে পুরো ২২ হাজার ৫০০ টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেন।

এ বিষয়ে যুথী খাতুন বলেন,

“এটা আসলে আমার দায়িত্ব ছিল। অন্যের কষ্টের টাকা নিজের কাছে রাখলে কখনোই মানসিক শান্তি পেতাম না।”

তার এই মানবিক সিদ্ধান্ত শুধু একজন মানুষের স্বস্তিই ফিরিয়ে দেয়নি, বরং সমাজে সততার একটি শক্ত বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সময়ে এমন উদাহরণ খুব কমই দেখা যায়। তাই ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

যুথী খাতুনের শ্বশুরবাড়ি খুলনা নগরীর নিরালা এলাকায়। পরিচিতজনদের মতে, তিনি বরাবরই শান্ত স্বভাবের ও নীতিবান একজন মানুষ। তবে এই ঘটনার মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিকটি সামনে এসেছে—সততা।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এমন ছোট ছোট সততার গল্পই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা তৈরি করে। কারণ সততা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়; এটি সামাজিক বিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে তোলে।

আজকের দিনে যখন প্রতারণা ও অনৈতিকতার খবর প্রায়ই শিরোনাম হয়, তখন যুথী খাতুনের মতো সাধারণ মানুষের অসাধারণ সততা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবিক মূল্যবোধ এখনও বেঁচে আছে। আর সেই মূল্যবোধই সমাজকে সুন্দর ও নিরাপদ করে তোলে।

যুথী খাতুনের এই ছোট্ট কিন্তু অর্থবহ কাজ যেন অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে—অন্যের প্রাপ্য ফিরিয়ে দেওয়াই প্রকৃত মানবিকতা, আর সততাই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

author

Editor

সততার আলো ছড়ালেন রূপসার যুথী খাতুন

Please Login to comment in the post!
adds

you may also like