- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীতে অপহরণের পর কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে এবং হযরত আলী নামের অপর আসামিকে ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরদিন জেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি সরিষা খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে বাসায় ফেরার পথে মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে তারা স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে গেলেও কোনো প্রতিকার পাননি; বরং এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ওই ঘটনার জের ধরেই অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মেয়েকে নিরাপদে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় বিলপাড় এলাকায় বাবার কাছ থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় নূরার নেতৃত্বাধীন একটি দল। পরদিন সকালে স্থানীয়রা সরিষা ক্ষেতে কিশোরীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মোট ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পাঁচজন এবং শুক্রবার আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া আহম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করেছে সদর উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।