আজকের তারিখ: শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৭ সকাল | ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্ত্রের রাজত্বে নীরব রাষ্ট্র! আইনের শাসন কি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ?


২৪ পরবর্তী সময়ে দেশের বাস্তবতা যেন হঠাৎ করেই বদলে গেছে। চারদিকে অবৈধ ও বিদেশি অস্ত্রের ছড়াছড়ি, গোলাগুলির খবর, থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ চারিদিকে চুরি ডাকাতি খুন ধর্ষণ অবিচার ছিনতাই —সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মনে গভীর সংশয় ও আতঙ্ক দানা বাঁধছে। প্রশ্ন উঠছে, এত অস্ত্র এলো কোথা থেকে? কারা এই অস্ত্রের যোগানদাতা? আর কাদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অস্ত্র ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে?

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—যারা প্রকাশ্যে থানা লুট, সরকারি অস্ত্র ছিনতাই ও থানায় আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে, তাদের অনেককেই এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্র লুট হয়ে যাওয়ার পরও যদি সেই অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে? আইনের শাসন কি তাহলে কেবল বক্তব্য আর কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ?

বিদেশি অস্ত্রের অবাধ প্রবাহ আরও ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তৎপরতা ও চোরাচালান প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। পরিকল্পিতভাবে কি একটি অস্ত্র সরবরাহ নেটওয়ার্ক দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে? যদি তাই হয়, তবে সেই চক্রের মূল হোতারা কেন এখনও আড়ালে?

রাষ্ট্র যদি অপরাধ স্বীকারকারীদের বিরুদ্ধেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা কেবল অপরাধীদেরই সাহস জোগায় না—একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রের ওপর আস্থাকে ভেঙে দেয়। আইনের প্রয়োগে শৈথিল্য থাকলে সমাজে শক্তির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, ন্যায়বিচার নয়।

এরই মধ্যে সামনে জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন মানেই এখন মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা। সহিংসতা প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর—তা নিয়ে জনমনে সংশয় প্রবল। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থতা, অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপের অভাব এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি যদি চলতেই থাকে, তবে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের সামনে কোনো বিকল্প নেই। অবৈধ অস্ত্রের উৎস চিহ্নিত করতে হবে, লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করতে হবে এবং অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক না কেন—তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা দেশ আরও গভীর অনিশ্চয়তা, সহিংসতা ও আতঙ্কের দিকে এগিয়ে যাবে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথম শর্ত হলো—আইনের নীরবতা ভাঙা। এখনই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে রাষ্ট্রকে। নইলে ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, এই নীরবতার মূল্য দেশকে কতটা ভয়াবহভাবে দিতে হয়েছে।

author

Editor

অস্ত্রের রাজত্বে নীরব রাষ্ট্র! আইনের শাসন কি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ?

Please Login to comment in the post!
adds

you may also like